💞 মায়াবতী বউ💞পর্বঃ৩

0
59

মিরা কল রিসিভ করলো কিছুটা ভয়ে,,,
মিরাঃহ্যাঁলো আব্বু
মাহবুব সাহবঃ কোথায় তুমি মিরা?
মিরাঃ আব্বু আমি নিঝুমদের বাসায়,,,কেন আব্বু?
মাহবুব সাহেবঃ কেন মানে? আমি কি তোমাকে খোজ নিতে পারি না?
মিরাঃ সরি! আব্বু আমি কথাটা ওভাবে বলি নি,,
মাহবুব সাহেবঃ তুমি এখনি বাসায় চলে আসো,, খুব জরুরি দরকার

মিরাঃ জ্বী আব্বু!

মিরা মাহবুব সাহেবকে খুব ভয় পাই,,মুনা আপুর মৃত্যুর পর থেকেই কেমন যেন হয়ে গেছে আব্বু,,
মুনা মিরার ৭ বছরের বড় বোন।মুনা ৫বছর আগে আত্নহত্যা করে,,কি কারনে করে তা মিরা জানে না কারন মিরা তখন নানি বাড়ি ছিলো,,
এরপর থেকে নীলদের বাড়ির সাথে সম্পর্ক খারাপ হয় মিরা বাবা,, এর কারন ও মিরা জানে না,,অনেকবার চেষ্টা করেছে কিন্তু জানতে পারে নি,,মুনার আত্নহত্যার পর মা প্যারালাইসিস হয়ে গেছে,,,

নিঝুমঃ কিরে তুই আংকেল কে যে বললি বাসায় যাবি তাহলে নীল এখানে আসলে কি বলবো আমি,,,

মিরাঃ তো কি করবো বল আমি? আব্বুর সামনে কি করে বলতাম যে পরে আসছি,,

নিঝুমঃ এক কাজ কর একটু লেট করে যা,, আংকেল বললে বলবি জ্যাম ছিলো রাস্তায় তাই দেরি হয়ছে,,,

মিরাঃ নারে তা হয় না,,নীল কে তুই বলে দিস সব। আমি যাই,,

মিরা গাড়িতে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়,,

নীল অফিসের কাজ তাড়াতাড়ি করে শেষ করতে চেয়েও পারলো না সেই সন্ধ্যা লেগেই গেলো,,,
ইফতিঃ নীল চল,,সব কাজ শেষ এখন বাড়ি ফেরা যাক,,,
নীলঃ উফ ভাই কি করে সামলাস তুই এসব? আমি তো একদিনেই হাপিয়ে উঠেছি,,

ইফতি শুধু একটা মলিন হাসি দিলো তারপর দু ভাই গাড়িতে বসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল,,

নীলঃ আচ্ছা ভাই তোকে একটা কথা জিঙ্গেস করি?

ইফতিঃ কর,,

নীলঃ আচ্ছা ভাই মাহবুব আংকেল তো আগে বাবার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলো তাহলে এখন তাদের সম্পর্ক এতো খারাপ কেন?
ইফতি হঠাৎ গাড়ি ব্রেক করে বসে নীলের কথা শুনে,,
নীল তাল সামলাতে না পেরে হাত গাড়ির গ্লাসে বাড়ি খাই,,

নীলঃ ভাই কি করছিস,,ঠিক আছিস তো তুই,,

ইফতিঃ হ্যাঁ ঠিক আছি,,
নীলের হাতের দিকে তাকাতেই দেখে হাতটা অনেক খানি কেটে গেছে,,দরদর করে রক্ত পড়ছে,,,
ইফতিঃ নীল তোর হাত দিয়ে তো রক্ত পড়ছে,,আমাকে ক্ষমা করে দে নীল,,আমি সত্যি খুব খারাপ,,আমার জন্যই সবার এতো কষ্ট,, নীলের হাত ধরে চোখে জল চলে আসে ইফতির,,

নীলঃ রিলাক্স ভাই! তেমন কিছু হয় নাই,,তুই শান্ত হ,,

ইফতিঃ কি করে শান্ত হই,,তুই চল এখনি ডক্টরের কাছে,,
নীলঃলাগবে না সামন্যই কেটে গেছে,,তুই আমার সিটে বস আমি ড্রাইভ করছি,,

ইফতিঃ তুই এই অবস্থায় কি করে ড্রাইভ করবি?

নীলঃ আরে আমি পারবো? তুই সর,,এতো অল্পতেই ভয়ে থাকিস কেন তুই বুঝিনা,,আগে তো এমন ছিলি না,,গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বলে,,,

বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামে,,
নীল গাড়ি থেকে নেমে কিছুদূর গিয়ে আবার ফিরে আসে,,

নীলঃ কিরে ভাই নাম?
ইফতি যেন ঘোরের মধ্যে আছে,,
নীলঃ ভাই,, এই ভাই,,
ইফতিঃ হুমম,
চমকে ওঠে নীলের ধাক্কায়,,
নীলঃ নাম,,
ইফতিঃ হ্যাঁ নামছি,,,
নিজের রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বেডে বসে মিরাকে কল দেবে সেই সময় রুমে কফি নিয়ে শুভা প্রবেশ করে,

শুভাঃ আপনার কফি,,,

নীলঃ তোমাকে কফি আনতে কে বলেছে,,ধমক দিয়ে বলে,,

শুভা আচমকা নীলের ধমক শুনে চমকে ওঠে,,গরম কফি কিছুটা শুভার হাতে পড়ে,,

শুভা আহ করে ওঠে,,

নীলঃ কি হয়েছে?

শুভাঃ কিছু না বলে,, কফিটা নীলের পাশের ল্যাম্প টেবিলটায় রাখতে গেলো,,

নীলঃ এই মেয়ে দাড়াও তোমার হাতে কি হয়েছে? লাল হয়ে আছে,,

শুভাঃ কিছু না,,বলেই চলে যেতে নেবে,,নীল হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে কাছে টেনে নেয়,,

নীলঃ সমস্যা টা কি তোমার,,আমার কথা না শেষ হতেই চলে যাও,,

নীলের এতো কাছে এসে শুভার হৃদপিণ্ডটা বুঝি ননস্টপ শব্দ করে চলছে,,এতো স্পিডে চলছে,,এই বুঝি ফেটে যাবে,,

নীলঃ কি কথার উত্তর দিচ্ছ না যে,,

শুভার খোলা চুলগুলো এসে নীলের মুখ ছুয়ে যাচ্ছে,,
শুভার লাজুক মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে নীল,, এতো কাছে মিরার ও যায় নাই নীল,,

মিরার কথা মনে পড়তেই শুভাকে ছেড়ে উঠে দাড়ায় নীল,,

নীল উঠে দাড়াতেই নীলের হাতের কাঁচা ক্ষতের দাগ দেখে শুভা,

শুভাঃ কি করে কেটেছে আপনার হাতে??
নীলের হাতটা নিজের হাতে নিয়ে,,
নীলঃ ও কিছুনা,,
শুভাঃ ও কিছুনা মানে,,কতোটা কেটে গেছে,, খুব কষ্ট হচ্ছে আপনার বুঝি? এখানে বসুন আমি এখনি ওষুধ নিয়ে আসছি,,নীলের হাতটা টেনে বেডে বসিয়ে দেয়,
নীল অবাক হয়ে শুভার কান্ড দেখতে থাকে।

শুভা আস্তে আস্তে নীলের হাতে মেডিসিন লাগাতে থাকে,,
নীল শুভার দিকে তাকিয়ে থাকে
এই প্রথম ভালো করে শুভার দিকে তাকাই নীল,,
ষোড়শী সুন্দরী বলতে যা বুঝায় শুভা ঠিক তাই,,দুধে আলতা গায়ের রঙ মায়াবী চেহারা,,যৌবনের সৌন্দর্য সবটুকু যেন লুটিয়ে পড়েছে শুভার সর্বাঙ্গ জুরে,,
হঠাৎ হাতে পানির পরশে চেতনা ফেরে নীলের,,
হাতে ফোটা ফোটা পানি পড়ছে। নীল তাকিয়ে দেখে শুভা কাদছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে,,

নীলঃ এই মেয়ে কাদছ কেন?

শুভাঃ কতোখানি কেটে গেছে!খুব ব্যথা করছে তাই না?

নীলঃ হুমমম! কি করে বুঝলে,,মুচকি হেসে,,

শুভাঃ ওমা! বুঝবো না,,আমি আপনার বউ হই না,,নানী বলেছে স্বামীর স্ত্রী কষ্ট একে অপরের কষ্ট এমনিতেই বুঝতে পারে,,আমি তো আপনার বউ আমি বুঝবো না তো কে বুজবে? কথাটা বলেই জিহ্বাতে কামড় দেয় শুভা,,
নীলঃ আর কি বলেছে নানী?শুভার মুখের কাছে এসে প্রশ্ন করতেই শুভা ভো দৌড় দেয় ওয়াশরুমে,,
শুভাঃতোর মুখে কোন স্টপেজ নাই,,যা মুখে আসে বলে দিলি,,বাঘের সামনে বসে বকবক করে আসলি নিজের মাথায় থাপ্পড় দিয়ে মুখে শাড়ির আঁচলকামড়াতে কামড়াতে বলে,,
শুভার এমন আচমকা দৌড় দেওয়াতে হো হো করে হেসে দেয় নীল,,

নীলঃ পাগলী একটা,,

রোদেলীঃনীল আসবো??

নীলঃ হ্যাঁ আয়!ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলে,,

রোদেলীঃ কি রে হাসছিস কেন?

নীলঃ না কিছু না! বল কিছু বলবি?

রোদেলীঃ নীল তুই মা কে একটু বুঝা,, আমি গ্রামে যেতে চাই না,,,এই বৃষ্টির সময় তো আরো আগে না,, কাদা ধুলো বালি এসব আমার একদম পছন্দ না,,আমার ফেয়ারনেস নষ্ট হয়ে যাবে,,

নীলঃ তুই কি রে,,গ্রাম হচ্ছে নির্মল বিশুদ্ধ পরিবেশের স্থান,,নিজের শেকড়ের প্রতি আলাদা টান থাকে,,নিজেদের সব আত্মীয় তো ওখানে কতো মজা হয় সবার সাথে দেখা হলে,,আর তুই আছিস তোর ফেয়ারনেস নিয়ে,,আচ্ছা আমি বলবো ফুফিমা কে,,মনে হয় কাজ হবে না,,

রোদেলীঃ তুই বল বাকিটা আমি দেখবো,,
ঐ ফকিন্নি ক্ষ্যাতটা কই রে,,

নীলঃ কার কথা বলছিস?

রোদেলীঃ আরে কাল মামু যারে তোর সো কলড বউ করে এনেছে,,

নীলঃ mind ur language রোদি,,
মানুষকে সম্মান দিতে শেখ,, কোন ধরনের কথা এসব,,রেগে

রোদেলীঃ কি বললাম যে এভাবে রিয়াক্ট করছিস?তোর এতো লাগছে কেন? তুই কি ওকে বউ বলে মানিস নাকি?

নীল চুপ থাকে,,

রোদেলীঃ বল! এতো মায়া দেখাচ্ছিস যে,,২ দিনে ভুলে গেলি মিরা কে,,

নীলঃ মিরা কে ভোলার জন্য তো ভালোবাসি নাই,,তুই আমার সামনে কাওকে ছোট করে কথা বললে আমি এভাবেই রিয়েক্ট করতাম হোক সে মিনু বা অন্য কেউ,,

রোদেলীঃ সেটাই!আশা করবো মিরা কে ধোঁকাদিবি না,,তোর কথামত মিরা বা ফ্রেন্ডস কাওকে এসব বলি নি,,কারন মিরা ছাড়া অন্য কাওকে আমি এ বাড়ির ছোট বউ মানি না,,
নীলঃ হুম তোর কথা শেষ হলে যা এখন,,

রোদেলীর খুব খারাপ লাগে নীল এই প্রথম ওর সাথে এতো দুর্ব্যবহার করলো শুধুমাত্র ঐ মেয়ের জন্য,, একবার হাতে পাই সব শোধ করে নেবো,,বির বির করতে করতে বেড়িয়ে গেলো,,

নীলঃ রোদেলী তো ঠিকই বললো!এই মেয়ে সম্পর্কে বাজে কথা বলায় এতো খারাপ লাগলো কেন আমার,,স্বামী বলে তাই? না না কি ভাবছি এসব আমি,,আমি কিছুই না এই মেয়ের,,

রাত ১০ টা নাগাদ সবাই মাগুরা উদ্দেশ্যে রওনা হলো নিজস্ব প্রাইভেট কারে,,

বাবা ফুফি ইফাত রোদেলী উঠলো এক গাড়িতে,,
পরের গাড়িতে মিনু, মৌ ও নীল, শুভা উঠলো,

গাড়ি গাবতলী ছাড়িয়ে সাভারের পথে চলতে থাকলো,,নীল গাড়ি ড্রাইভ করছে,,শুভাকে ভাবি জোর করে নীলের পাশে বসিয়েছে,,

পেছনে ভাবি আর মিনু গল্প করছে,,
রাত কিছুটা গভীর হতে লাগলো,,
নীল ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে গেছে,,

জানালার গ্লাস খোলা থাকার কারনে বাইরের বাতাস এসে শুভা চুলগুলো বারবার মুখের উপর পড়ছে,,
আলো আঁধারে শুভার মুখটা অসাধারণ লাগছে,,না চাইতেও চোখ ফেরাতে পারছে,, গাড়ি ড্রাইভ করছে আর চেয়ে আছে,,

ভাবি পেছন থেকে সব দেখে মিটি হাসছে,,
ভাবিঃ আমি জানি নীল তুমি শুভার মায়া এড়াতে পারবে না,,বউ তো ও তোমার,,অনন্তকালের সম্পর্ক তোমার সাথে,,তোমার সকল ভালোবাসা পাওয়ার হক শুভার সেখানে তুমি অন্য কাওকে তা দিয়েছ,,শেষমেশ এই শুভাই হবে তোমার শেষ ঠিকানা,,,,তখন অনুতাপ ছাড়া কিছুই থাকবে না,,,
মনে মনে ভাবে,,,

গাড়ি এসে আরিচা ফেরিঘাট থামে,,ইফাত ও নীল ফেরির টিকেট নিয়ে গাড়ি ফেরিতে উঠায়,,,

সবাই গাড়ি থেকে ফেরির এক কোনে দাঁড়ায়,, রাতের আবছা আলোতে পদ্মার বিশাল জলরাশীর উপর চলতে থাকে ফেরি,,,,

শুভা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ঢেউয়ের খেলা দেখে,,রাতে আধারে গন্তব্য দেখা যায় না চারিদিকে শুধু জলের ঢেউ,, মাঝে মাঝে দূরে কয়েকটা ফেরি হুইসেল দিয়ে যাচ্ছে,,

গভীর রাত হলেও মনে হচ্ছে না কারন ফেরিতে মানুষের যথেষ্ট সরগরম,,,

ভাবিঃ শুভা চল ২তলা যায়! ওখানে চা নাশতা করা যাবে,,,
শুভা সহ সবাই গেল,,বাবা আর ফুপি গেল না,,
সিড়ি তে খুব ভীর,,কেউ নামছে তো উঠছে পরে,,ভাবি রোদেলী আর মিনুর সাথে কথা বলতে বলতে আগেই উঠে গেলো,,,
শুভা এতো মানুষের ভীরে ২ পা উঠে আবার ছেলেদের গা ঘেঁষে যাওয়ার কারনে নেমে জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে থাকে,,, কান্না পায়,,,
শর্মিটার কথা বড্ড মনে পড়ছে যতবার যশোর গিয়েছে শর্মিই ওকে হাত ধরে ফেরির যেখানে যাবে নিয়ে যেত,,বলতো এতো ভিতু কেন তুই,,, সারাজীবন কি আমি নিয়ে যেতে পারবো বল?

হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শে চমকে যায় শুভা,,
নীলঃ কি ব্যাপার দাড়িয়ে আছো কেন এভাবে,,চল,,হাত ধরে শুভা ভীরের মধ্যে থেকে উপরে নিয়ে যায়,, উপরেও অনেক ভীর শুভাকে নিজের সামনে এনে আস্তে আস্তে সামনে নিয়ে যায় নীল,,
শুভা সত্যি অবাক হয় নীলের এতো কেয়ারে,,
ভাবিঃ কিরে কই ছিলি,,,
নীলঃ কই থাকবে,,বোকার মতো নিচে দাঁড়িয়ে ছিলো,,এতো ভীতু কেন এই মেয়ে ভাবি?
মিনুঃ ভাইজান আপনি যে সাহসী হের লাইগা ছোট ভাবি ভীতু,,
নীলঃ বেশি বুঝতে শিখেছিস মনে হচ্ছে,,
ভাবি তোমরা বস আমি দেখছি কি পাওয়া যায়,,,

নীল চলে যেতেই ভাবি শুভাকে চিমটি কেটে বলে কি বলেছিলাম না দেখলে তো কত কেয়ার করে,,,

সবাই বসে খাবার খেলো,,শুভা চা খেতে গিয়ে জিব পুড়িয়ে ফেলে,,
কিন্তু কাওকে বুঝতে দেয় না,,খাওয়া শেষ করে সবাই গাড়ির কাছে আসে,,
সবার মাঝেই শুভার চোখ নীলকে বার বার খোজে,,
কয়েকবার নীলের সাথে চোখাচোখিও হয় শুভার,,লজ্জা পেলেও বেহায়া চোখদুটোকে যেন চম্বকের মতো টানে নীল,,না চাইতে তাকাই,,

ফেরি ঘাটে এসে ভেরে,,,গাড়ি আবারো চলতে থাকে,,,খুব ভোরে মাগুরা এসে পৌছায় নীল রা,,

পুরো বাড়িতে ডেকোরেট করা,,চাচা চাচি সহ অনেকে জেগে গেছে নীলদের আসার খবর শুনে,,

শুভাকে এই প্রথম দেখলো সবাই,,শুভাকে সবাইকে সালাম করলো,, চাচা চাচীও পছন্দ করলো শুভাকে,,

সবাই যার যার রুমে ফ্রেশ হতে গেলো,,চাচী শুভাকে বাড়িতে নীলের ঘরে দিয়ে গেলো,,

শুভা ঘরে নীলকে খুজতে লাগলো,,,
হঠাৎ ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজে পেছনে ফিরতেই চোখ ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইলো,,,

খালি গায়ে আধো ভেজা শরীরে টাওয়ালে চুল মুছতে মুছতে বের হয়ে আসে নীল,,
বুকের কালো লোমগুলো দেখে হা করে আছে,,

নীল এতোক্ষণ খেয়াল করে নাই শুভা সামনে দাড়িয়ে আছে,,
নীলঃযাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেও,,শুভাকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুচকি হেসে মুখে টাওয়াল ছুড়ে দেয়,,

শুভা নিজের কাজে নিজেই লজ্জিত হয়,,
তারপরও নীলকে দেখে দেখে কাপড় বের করার জন্য ব্যাগের চেইন খুলতে গিয়ে আটকে ফেলে চেইন,,খুলছেই না,,
নীল পেছনে তাকাতেই দেখে শুভা ব্যাগের চেইন নিয়ে টানাটানি করছে,,,বিরক্ত লাগে রবিনের,,
নীলঃ সঠিক ভাবে কি কিছু করতে পারো তুমি??
শুভা পেছনে ঘুড়তে গিয়ে নীলের বুকের সাথে ধাক্কা খায়

বুকের সাথে ধাক্কা লেগে হাত মুঠ করে দাড়িয়ে থাকে শুভা,,,নীলের শরীরের গন্ধ মাতাল করে দিচ্ছে চাইলেও সরে দাঁড়াতে পারছে না,,,
নীলঃ এই পিচ্চি মেয়ে! এতো অধৈর্য কেন কেন তুমি,,আস্তে ধীরে কাজ করতে পারো না তুমি?

নীলের বুক সমান শুভা,,নীল কাছে আসলে হার্ট বিট যেন দ্বিগুন হারে বাড়তে থাকে,,,
নীল শুভার সামনে থেকে সরে ব্যাগের চেইন ঠিক করতে থাকে,,

শুভা যেভাবে দাড়িয়ে ছিলো ওভাবেই দাড়িয়ে আছে,,যেন নীলের ঘোরে পরে আছে,,,

নীলঃ নাও,,ঠিক করে দিয়েছি,,গিয়ে ফ্রেশ হও জলদি,,খেতে ডাকবে এখনি,,

নীল পেছন ফিরে দেখে শুভা ওভাবে নখ কামড়ে দাড়িয়ে আছে,,,

নীলঃ ঐ!
নীলের ধমকে চমকে ওঠে শুভা,,
শুভাঃ জ্বী!
নীলঃ যাও,,,
শুভাঃ কই!বোকার মতো প্রশ্ন করে,,
নীলঃ কই মানে?চোখ রাঙিয়ে,,
শুভাঃ ওহ যাচ্ছি যাচ্ছি,, বলে কাপড় নিয়ে দৌড় দেয়,,ওয়াশরুমের দরজা লাগানো আগে আবার দরজার একটু খুলে নীল কে দেখে,,
নীলঃ দরজা লাগাও বলছি,,
শুভা ধপ করে ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে দেয়,,

নীল রাগের মাথায় ভেবেছিলো শুভার সাথে মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করবে,,কিন্তু নীল জীবনে পারবে না এতো বড় খারাপ কাজ করতে কারো সাথে,,
শুভার সাথে প্রথম রাতে যে দূরব্যবহার করেছিলো সেই অপরাধবোধ এখনো আছে নীলের,,

তাই নীল ভেবে নিয়েছে শুভাকে ভালো কলেজে ভর্তি করাবে।কিছু সময় নিয়ে তারপর শুভাকে সব খুলে বলবে নিশ্চয়ই বুঝবে ও,,

ফ্রেশ হয়ে সবাই খেতে গেলো ডাইনিং এ
নীল শুভা পাশাপাশি বসেছে,,

নীলঃ ওয়াও চাচী! ছোট মাছ, খিচুড়ি,গরুর মাংস,,

চাচীঃ হুম তোর আর ইফতির পছন্দের খাবার,,

নীলঃ তোমার হাতে রান্নার তুলনায় হয়না,,তোমার মেয়েটাকে যদি একটু শিখাতে তাহলে দিন দিন শুকাতাম না,,খেতে খেতে মৌয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,,

মৌঃ ওরে ফাজিল! কি বললি আমার রান্না ভালো না? আমার রান্না খেয়ে তুই দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছিস? ইফতি দেখছ তোমার তোমার কি বলে,,ঠিক আছে এবার ঢাকা গেলে মিনুকে দিয়ে রান্না করাবো, হু ভেংচি দিয়ে,,,

নীলঃ চাচী তোমার মেয়েকে বলো তাহলে আর ঢাকা গিয়ে করবে টা কি? তার ছুটি,,মুচকি হেসে,,

মৌঃ তার মানে এতোদিন রান্নার জন্য ছিলাম?

নীলঃ তো কি?

মৌঃ বাবা! ভ্যা করে কেদে কেদে বলে,,

ইকবাল সাহেবঃ আহ্ নীল! কি হচ্ছে টা কি খাবার সময়?

নীলঃ দেখছ বাবাও সত্যিটা বলতে চাচ্ছে না হেসে হেসে ভাবির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,,,

মৌঃ তবে রে! দাড়া,,,

নীল দৌড় দিলো মৌ ওর পিছু পিছু,,
টেবিল বসা সবাই ওদের দেখে হাসছে,,শুভা নীলের এই রুপ দেখে অবাক,,ওর রাগী বরটা যে এতো দুষ্টু তা শুভা ভাবতেও পারে নি,,এমনিতেও ফিদা ছিলো এখন তো কলিজা, জান,কিডনি সব লুটায়ে ফিদা হয়ে গেলো নীলের উপর😁

নীল দৌড়ে দাদীকে জড়িয়ে ধরে,,
মৌ গিয়ে নীলের হাতে কয়েকটা চড় দেয়,,
চাচীঃ কি শুরু করলি মৌ? এখনো কি ছোট আছিস তুই,,

নীলঃ আরে চাচী মারুক? এমন শুকনা পাটকাঠির হাতের মার ও মধুর লাগে,,

মৌঃ লাগবেই তো জিম করে করে বডি বানিয়েছিস শয়তান একটা,,আবার আসিস ভাবি ভাবি করতে,,
নীলঃ ওলে আমার থুন্দরী ভাবিটা লে,,তোমার সাথে মজা করলাম কিছু বুঝো না তুমি ভাবির গাল টেনে,,

মৌঃছাড় আমার গাল,,দাদি কিছু বলো তোমার এই বাঁদর নাতিটাকে,,

দাদিঃ ছোট দাদুভাই! ভাবির সাথে কেউ এমন করে বল,,

নীলঃদাদি ভাবি হওয়ার আগে ও আমার বান্ধবী,, না রে বান্ধবী?

মৌঃ দাদি?
দাদিঃ মৌ তুই তো জানিস ও এমন মজা করেই,, রাগ করিস না বুবু,,কত দিন পর তোদের দেখলাম
আর তোরা এসেই ঝগড়া শুরু করলি,,,
খেতে বস আয়,,মৌ নীলকে জিব দিয়ে ভেংচি কেটে ইফতির পাশে বসে পড়ে,,

দাদিঃ কই আমার ছোট নাত বউ কই?

শুভা দাদিকে উঠে গিয়ে সালাম করে,,
দাদি শুভাকে নিজের পাশে বসিয়ে মাথায় হাত দিয়ে দুয়া করে দেয়,,

ইকবাল! এ তো পুরো নীলের মায়ের মতো,,নরম স্বভাবের,,

আমি হচ্ছি তোর সতিন! ঝগড়া করবি নাকি আমার সাথে?
শুভা দাদি এমন কথায় লজ্জা পায়,,,নীলের দিকে চোখ পড়তেই আরো লজ্জা পায় কারন নীল এদিকেই আড়চোখে চেয়ে আছে,

সবাই খাবার পর্ব শেষ করে নিজের রুমে বিশ্রাম নিতে গেলো,,

শুভা রুমে ঢুকে দেখে নীল শুয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে,,
নীল শুভাকে আড়চোখে দেখে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে,,
শুভাঃ উনি তো বিছানায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে,, আমি কি করবো,,কোথায় ঘুমাবো? দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে মাথা নিচু করে পায়ের আঙুল ফ্লোরে ঘষছে,,

নীলঃ ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? বিছানায় এসে শুয়ে পড়,,
নীলের কথা শুনে শুভা চুপচাপ গিয়ে বিছানার এক কোনে শুয়ে পড়লো,,

শুয়ে পড়লেও ঘুম আসছে না শুভার কিছুতেই বার বার মনটা নীল কে দেখতে চাচ্ছে,,

নীলঃ কি ব্যাপার ঘুমাচ্ছ না কেন? চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়,,

শুভা নীলের এমন কথা শুনে লজ্জায় বালিশে মুখ লুকিয়ে শুয়ে পড়লো,,,

নীল অনেক ক্ষণ ধরে মিরা কে ট্রাই করছে? না! ধরছে না,,আর এখন তো ফোনটা আউট অফ কানেকশন দেখাচ্ছে,,
রাগে মাথার রগ মনে ছিড়ে যাবে নীলের,,হাতের কাছে পেলে খবর ছিলো মিরার,,,

আজ ১ টা দিন মিরার খোজ নেই নীলের একটুও ভালো লাগছে না,,,

অনেক ক্ষন পায়চারি করে বিছানায় আসতে রাগ মাটি হয়ে যায় নীলের। শুভার ঘুমন্ত মুখখানা দেখে,,
একটা মেয়ে ঘুমালে এতো সুন্দর লাগতে পারে শুভাকে না দেখলে নীল জানতোই না,,

ফ্যানের বাতাসে শুভা চুলগুলো মুখে আসছে নিজের অজান্তেই নীল শুভার কাছে গিয়ে বসে মুখের উপর আছরে পড়া চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দেয়,,

হঠাৎ মোবাইল কল আসায় নীল তড়িঘড়ি করে উঠে যায় কারন মিরা কল করেছে,,

নীলঃ হ্যাঁলো! দিন দিন তোর সাহস খুব বেড়েছে তাই না? সাহস কি করে হয় মোবাইল অফ রাখার,,

নীল খেয়াল করে মিরা চুপচাপ করে আছে,,শুধু থেকে থেকে ফুপিয়ে ওঠার আওয়াজ আসছে,,
নীল বুঝতে পারে মিরা কাদছে,,

নীলঃমিরু i am sorry! বিশ্বাস কর আমি তোকে কষ্ট দিতে চাই নি রে,,,,তুই আমাকে যে শাস্তি দিবি আমি মেনে নেব!

মিরাঃ তুই আমাকে সত্যি করে একটা কথা বলবি নীল?
নীলঃ কেন তোর কি ধারনা তোর নীল তোকে মিথ্যা বলে,,
মিরাঃ নীল তুই আমাকে সত্যি ভালোবাসিস তো? কখনো ধোঁকা দিবি না তো,,তুই ধোকা দিলে আমি মরে যাবো রে,,তোকে যে খু্ব ভালোবাসি আমি নীল,,
নীলের বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে,
নীলঃ এসব কি বলছিস তুই? দুনিয়া উল্টে গেলেও তোর নীল তোকে ধোকা দেবে না,,
আজ হঠাৎ এ কথা কেন বললি তুই? কি হয়েছে বল আমাকে,,
মিরাঃ কিছু না! কাল দেখা করবি প্লিজ,, খুব জরুরি কথা আছে তোর সাথে,,
নীলঃ আমি তো বাড়ি চলে আসছি,, কাজিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই?
মিরাঃ কি? তুই বাড়ি গেছিস অথচ আমাকে বলিস নি? তুই আস্ত একটা হনুমান তোর সাথে ব্রেকাপ যা,,
নীলঃ আবার শুরু হয়ে গেলি,,কথায় ব্রেকাপ ব্রেকাপ করিস কেন রে,,
বললাম তো হুট করে বাবা বললো তাই তোকে জানাতে পারি নাই ও হ্যাঁ তোকে কতবার কল করেছি তুই যে ধরিস নাই,,
তোকে সামনে পেয়ে নেই খবর আছে,
মিরাঃ আচ্ছা নীল পরে কথা বলছি,,বলেই কল কেটে দেয়,, নীলের প্রচন্ড রাগ হয় মিরার উপর,,
রাগে গজগজ করতে করতে সোফায় এসে শুয়ে পড়ে,,,সারাদিনের জার্নির পর শরীর টা সোফায় দিতেই ঘুমিয়ে পড়ে নীল,,,

Next part➡Please wait 1das

190 total views, 6 views today

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here