💞মায়াবতী বউ 💞পর্বঃ১

0
43

#বউ
😍অরিন তন্নি😍
😱
শাওয়ার থেকে বেরিয়ে চুল তোয়ালে জরিয়ে দাঁড়িয়ে এক ধ্যানে চেয়ে আছে বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটার দিকে।না চাইতেও চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো শুভার। কাল ছিলো শুভার বাসর রাত।সব মেয়ের মতো শুভাও স্বপ্ন দেখেছিলো বাসর রাত নিয়ে। কিন্তু কাল রাতে এতোদিনের জমানো স্বপ্ন সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে,,

ঘুম ভেঙে দুচোখ মেলতেই সামনে শোভাকে এভাবে তাকাতে দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় নীলাদ্রির,, চোখ রাঙিয়ে তাকাই শোভার দিকে,,
তারপর বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়,,

শোভা এবার কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়ে বিছানার পাশে,,
নীলাদ্রি শোভার স্বামী। কাল বিয়ে হয় নীলাদ্রি ও শোভার।বিয়ে টা একটা এক্সিডেন্ট ছিলো,,
শোভার বাবা মা ছোট বেলায় মারা যায়। তারপর চাচা চাচীর কাছেই মানুষ,, চাচী শোভাকে ভালো নজরে দেখে না চাচা ভালোবাসলেও,,
সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া যুবতী মেয়েকে একটা মধ্যেবয়সী বিবাহিত পুরুষের সাথে কোনো মা ই বিয়ে দিতে চাইবে না,, চাচী বলেই শোভার সাথে এমটা করেছিলেন রেশমা বেগম।
পরিবারের সবার অমতে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন রেশমা বেগম কারন হবু বর তাকে নগদ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শোভা চুপচাপ চাচীর কথায় বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। কারন শোভা আর বোঝা হয়ে থাকতে চায় না চাচা চাচীর ঘাড়ে।
সমবয়সী চাচাতো বোন শর্মি মায়ের এমন কাজে প্রতিবাদ করে। যার কারনে শর্মিকে মারও খেতে হয়।

ঘরে একপ্রকার অশান্তি শুরু হয়ে যায় শোভার বিয়ে নিয়ে,, যার রাগ চাচী শোভাকে বকে মেরে ঝাড়েন।
তাই সবার খুশির জন্য নিরুপায় হয়ে বিয়েতে রাজি হয় শোভা,,
বিয়ের আসরে সব ঠিকঠাকই ছিলো হঠাৎ করে পুলিশ এসে হবু বরকে বিয়ে পড়ানোর আসরে তুলে নিয়ে যায়,, কারন এই লোক একজন নারী পাচার কারী।বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মেয়েদের পরিবারকে লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে সেই বউ কে পাচার করে দেয়,,

বিয়ের আসরে বরকে পুলিশ তুলে নেওয়ায় শুভার নামে কানাঘুষো শুরু হয়।এসব শুনে শুভার চাচা বেহুঁশ হয়ে পড়েন,,
তখন শুভার চাচাকে বিয়েতে দাওয়াতে আসা তার ই এক বন্ধু কথা দেয় শুভাকে নিজের ছেলের বউ করবেন।সেইমতেই ছেলে নীলাদ্রির সাথে শুভার বিয়ে দেন ইন্ড্রাসট্রিয়াল ইকবাল হাসান।

বাসর রাতে বসে বরের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো শুভা,,
হঠাৎ স্বজোড়ে গালে চড় বসলো শুভার। আচমকা চড়টা পড়াই ঘুমের ঘরে খাটের সাথে মাথা বাড়ি খেয়ে পড়ে গেলো।

কপালে হাত দিয়ে উঠতেই নীল চুল ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো শুভাকে,,
মুখ থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে।শরীর ঢুলছে নীল ড্রিঙ্ক করেছে,,

নীলঃখুব শখ বড়লোকের বউ হওয়ার? ভালোই তো মানুষকে ফাসাতে পারে তোদের পরিবার।মনে রাখ তোকে কোনোদিন আমি বউ হিসেবে মানবো না,,

তোর কারনে আজ আমি আমার ভালোবাসাকে হারালাম।কি ভেবেছিস তোকে আমি বউয়ের মর্যাদা দেবো।কোনোদিনও তা হবে না।
বলেই শুভাকে ধাক্কা দিয়ে বেডে উপর পড়ে যায়।
শুভা দাড়িয়ে চোখের জল ফেলে,,
তারপর নীলের জুতা খুলে বিছানায় ঠিক করে শুইয়ে দেয়।
সারারাত করিডোরে কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়ে শুভা,,

শাওয়ার থেকে বেরিয়ে এসে রুমে চোখ বুলিয়ে নেয় নীল।পুরো রুমে মেয়েটিকে খোঁজে। কাল খুব বাজে ব্যবহার করেছে নেশার ঘোরে,,
বউ হিসেবে মিরা সারা অন্য কাওকে ভাবতে পারে না নীল।
এখন মিরাকে কি বলবে বুঝতে পারছে না নীল। মিরা যদি এই বিয়ের কথা জানে তাহলে কি হবে নাহ আর ভাবতে পারে না নীল।এই মেয়েকে যে করেই হোক জীবন থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে মিরা কোনো কিছু জানার আগে,,

আলমিরা থেকে কাপড় বের করতে যাবে ঠিক তখন করিডোরে বসে থাকা মেয়েটিকে দেখে ভেজা চুলে টিপটিপ করে পানি পড়ছে সাথে কিছুটা বিরতি দিয়ে দুচোখ বেয়েও নোনা জল পড়ছে,, দুই ভিন্ন প্রকার জল মিশে একাকার হয়ে গেছে,,
নীলের বুকের পাশে কেন যেন চিন চিন করে ব্যথা জাগে ঐ নোনাজল দেখে,,

শুভার চোখের অশ্রু ধারা যেন থামতেই চাচ্ছে না।চোখ মুছতে মুছতে লাল হয়ে গেছে চোখ মুখ।
হঠাৎ পাশ থেকে কারো কন্ঠ স্বরে পিছনে ফিরে থমকে যায়,,,
নীলঃ সরি!শুভা দিকে তাকিয়ে,,,
নীলের মুখে সরি শব্দটা শুনে শুভা অবাক হয়,,,,

নীলঃ আম সরি!
শুভাঃ জ্বী! মানে। কি বলছেন? কাঁপা গলায় বলে,,
নীলঃ লিসেন! আমি এতো ভনিতা করতে পারবো না। সোজা কথা হলো। কাল রাতে নেশার ঘোরে তোমার সাথে যে মিসবিহেভ করেছি তার জন্য রিয়েলি আম সরি।
কথাগুলো দ্রুত বলে চলে গেলো রুম থেকে নীল।
শুভা অসহায় ভঙ্গিতে দাড়িয়ে রইলো।নীলের ব্যবহারে।
নীলের মুখে সরি শুনে কেন যেন ভালো লাগলো খুব।
কিন্তু নীল রাতে যা বলছিলো সব কি ভুল ছিলো।
কি জানি হয়তো তাই হবে।
শুভার ভাবনায় ছেদ পড়লো রোদেলীর আওয়াজে,,রোদেলী নীলের ফুফাতো বোন।
রোদেলীঃ কি ব্যাপার ঘুম কি ভাঙলো নবাব নন্দীনির।ঘরে ঢুকে শুভাকে খুজতে খুজতে বললো।
রোদেলীর আওয়াজে করিডোর থেকে রুমে প্রবেশ করলো শুভা।
শুভাকে দেখে মুখের অঙ্গ ভঙ্গি পরিবর্তন করে তাকালো
রোদেলীঃ তা ঘুম কি ভেঙেছে মহারানী আপনার?নাকি আরো একটু ঘুমাবেন?
শুনেছি মা বাবা নেই তাই বুঝি জানো না যে নতুন বউ কে সবার আগে উঠতে হয়।আমি তো জানতাম তোমার মতো ফকিন্নি মেয়ে গুলো এসব বেশি জানে। কিন্তু তোমার হাব ভাব তো বিয়ের রাতেই পাল্টে গেছে দেখি
ঝাঁঝালো স্বরে কথাগুলো বললো রোদেলী।

মৃত পিতা মাতাকে নিয়ে এমন কথা শুনে কেদে দেয় শুভা।
শুভাঃ এসব কি বলছেন আপু?
রোদেলীঃ ঐ আমার সামনে এসব নাকে কান্না করবি না বলে দিলাম।আমার সহজ সরল মামু টাকে ফাঁসিয়ে নীল ভাই কে বিয়ে করেছিস। আবার এখন নাটক করা হচ্ছে তাই না?তোদের মতো গবির মেয়েকে চিনি না আমি ভেবেছিস।
শুভা অসহায় হয়ে কেদেই যাচ্ছে।কি আর করবে এমন নতুন অজানা অচেনা পরিবেশে এমন করে কেউ কিছু বললে কাদা ছাড়া কি আছে শুভার।পরিচিত হলেও কোনো জবাব দিতো না শুভা।নরম স্বভাবের মেয়ে শুভা।

রোদেলীঃ হয়েছে হয়েছে এবার কান্না থামিয়ে নিচে ব্রেকফাস্ট করতে চলেন আর আমাকে উদ্ধার করেন।উফ্ মম যে কেন এই মেয়ে কে বউ হিসেবে মেনে নিলো।
বলতে বলতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

শুভা চোখ মুখ ধুয়ে রেডি হয়ে শাড়ির আচল টেনে গোমটা দিয়ে নিচে নামলো মনে হাজারো ভয় সংকোচ নিয়ে।
শুভাকে নিচে নামতে দেখেই নীলের ফুফিমা হেসে কাছে এসে বুকে টেনে নিলেন।তারপর কপালে চুমো দিলেন।
ফুফিমাঃ ভাইজান সত্যি তো তুমি চাঁদ ঘরে নিয়ে এসেছো।আই মা! টেবিলে বস।বলেই ট বসিয়ে দিলো
শুভা বসার আগেই ব্রেকফাস্টে বসা নীলের বাবার পায়ে সালাম করে নেই।মামী ভাবিরা শিক্ষিয়ে দিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির বড়দের নাকি নতুন বউরা এভাবে সম্মান করে,,
নীলের বাবাঃ বউ মা! ইনি তোমার ফুফু শ্বাশুড়ি।
এই কথা শুনে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে গেলো।
ফুফিমাঃথাক থাক! শুভার হাত পা ছোয়ার আগেই ধরে ফেলে তারপর আবার বসিয়ে দেয়।

শোনো মা! আজ থেকে এই বাড়ির সকল ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব তোমার।তুমি এ বাড়ির বউ।আমার নীলের বউ।তোমার স্বামী টা একটু রাগী।কিন্তু মনের দিক দিয়ে খাটি হীরা।তোমাদের যেভাবে হুট করে বিয়ে হলো তাতে নীল হয়তো একটি রাগ হয়েছে। ও কিছু না সব আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
ফুফি কি অনেক কঠিন কথা বলে ফেললো মা! মাথায় হাত দিয়ে একটু ঝুকে শুভাকে জিজ্ঞেস করলো,,

শুভাঃ না না!

নীলের বাবাঃ মা রে তোর মামা আর আমি খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু তোর সব কথায় আমি জানি। তুই এটা ভেবে কষ্ট পাবি না যে আমি তোর উপর করুনা করেছি।আমার মা মরা ছেলের উচ্ছন্নে যাওয়া জীবনকে আবার গোছালো করে দে। পারবি না আমার ছেলেটাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে? মাথায় হাত রেখে বলে নীলের বাবা।

শুভাঃ জ্বি চাচাজান! পারবো,,
ফুফিমাঃএই বোকা মেয়ে চাচাজান না, বলো বাবা।এখন থেকে ইনি তোমার বাবা।
শুভা চেয়ে রইলো কিছুক্ষণ কারন বাবা শব্দটা কাওকে বলেছিলো কিনা ঠিক মনে নেই।কথা বলার পর থেকে তো বাবাকে দেখাই হয় নাই।

শুভার কাছে নীলের বাবাকে বাবা ডাকতে কেমন যেন লাগলো।তারপরও ডাকলো।শুভার মুখে বাবা ডাক শুনে খুশি হলো নীলের বাবা।

নীলঃ কাল কানাডা থেকে আসার পর এতো কিছু হয়ে যে মিরা কে একটা ফোনও দিতে পারলাম না।মিরা হয়তো খুব রেগে আছে।তাই আর দেরি না করে মোবাইল টা হাতে নিয়ে মিরাকে কল দিলো
নীলঃ গুড মর্নিং জান
মিরাঃহুমমমম! গুড মর্নিং ঘুমের ঘোরে জবাবা দিলো,,
নীলঃ মিরু এখনো ঘুমাচ্ছিস তুমি? সকাল কয়টা বাজে খেয়াল আছে সেদিক,,
মিরার এবার ঘুমের ঘোর থেকে বের হয়ে মোবাইলে দিকে তাকাই,,
মিরাঃ তুই আমাকে কল করেছিস কেন? তোর সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ
একদম কল দিবি না বুঝলি,,রেগে কথাটা বলে কল কেটে দেয়।

নীলঃ চমকে যায় মিরার এমন আচরণে তাহলে কি মিরা সব জেনে গেলো?কিন্তু তা কি করে হয়। এই বিয়েটার কথা তো মিরার জানার কথা না।
নীলের হাত পা কাপছে একপ্রকার। তাহলে কি মিরা কে ও হারিয়ে ফেললো।
দ্বিধা সংকোচ নিয়ে আবার মিরার নাম্বারে কল দিলো নীল।
কল যাচ্ছে কিন্তু ওপাশ থেকে মিরা কল রিসিভ করছে না।নীলের বুকটা চিরে হয়তো কলিজা বের হয়ে যাবে এমন লাগছে নীলের,,

অনেকবার কল দিলো কিন্তু মিরা কল রিসিভ করলো না।নীল কি করবে ভেবে পাচ্ছে না
হঠাৎ মোবাইল টা বেজে উঠল। নীল মোবাইল টা হাতে নিতেই দেখে মিরা কল করেছে।
নীল একমুহূর্ত দেরি না করে মিরার কল রিসিভ করে
নীলঃমিরু প্লিজ কলটা কাটবি না,,আমি তোকে সব বুঝিয়ে বলবো। আমার জীবনে তুই ছাড়া আর কারো জায়গা নেই,,কাঁপা গলায় এক শ্বাসে কথা বলে নীল।
কিন্তু মিরা ফিক করে হাসি দেওয়ায় নীল থতমতো খেয়ে যাই।
মেয়েটা কি পাগল হয়ে গেলো নাকি,,
নীলঃ এই মিরু তুই হাসছিস কেন? না এই মেয়ের হাসির মাত্রা আরো বেড়ে যায়। মনে হচ্ছে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।
এবার কিছুটা রাগ হয় নীল।নীলের শব্দ না পেয়ে মিরা হাসি থামিয়ে দেয়।
মিরাঃ এখন কেমন লাগছে তোর? কাল সারাটা দিন তোর কোনো খোজ পায় নি। কেমন ছটফট করে দিন রাত কেটেছে আমার তুই ভেবেছিস? কান্না জরিত কন্ঠে। তাই আমিও তোকে বুঝালাম এমন করলে কেমন লাগে দেখ।

নীল বুঝতে পারে সত্যি ও মিরাকে কষ্ট দিয়েছে।
নীলঃ সরি মিরু! আর এমন হবে না এবারের মতো ক্ষমা করে দে।
মিরাঃ হুমমম গম্ভীর গলায়।
নীলঃ আমার বাচ্চার মা টা কি অনেক রেগে আছে? বাচ্চার বাবাকে একটু আগে তো মেরেই ফেলছিলো।আমি মরে গেলে তোর বাচ্চার বাবা হতো কে রে?

মিরাঃ ইইউ বাচ্চার বাবা হবে উনি হু( মুখ ভেঙচিয়ে)
এতোদিনেও তো আঙ্কেল কে বলতেই পারিস নি আমাদের সম্পর্কের কথা ভিতুর ডিম একটা।দেখিস কোনো দিন তোর সামনে দিয়ে বরের গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যাবো তুই তখন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবি।
নীলঃ মিরু! ধমক দিয়ে।
তোর সাথে কোনো কথায় নেই। সব সময় দুরে যাওয়ার কথা বলিস।
মিরাঃতো কি বলবো বল?এতোদিন বাবা মা কে পড়ালেখা শেষ করে বিয়ে করবো বলে কথা দিয়েছি? যেন তুই আঙ্কেল কে আমাদের ব্যাপারে রাজি করাতে পারিস।কিন্তু আর এক মাস পর মাস্টার্স শেষ হবে তখন বাসায় কি বলবো বল।
আমার খুব ভয় হয়রে নীল! তোকে যদি হারিয়ে ফেলি?
নীলঃতুই ভাবিস না খুব শীঘ্রই আমাদের সব চিন্তার অবসান হবে।আচ্ছা যা ফ্রেশ হয়ে নে।১০ টার দিকে ক্যাম্পাস দেখা করিস?
মিরাঃ হুম
নীল ভাবে সত্যি কি পারবে বাবা কে বলতে মিরার কথা।আগেই বলতে পারে নাই কারন মিরার বাবা আর নীলের বাবা বিজনেস প্রতিদ্বন্দ্বী। আগে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিজনেস পার্টনার ছিলো।কোনো কারন বশত দুজন এখন দুজনার চোখের শত্রু।

মিরা আর নীল ছোট বেলা কার বন্ধু। বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কটা এখন প্রেমের।
কিন্তু দুপরিবারের শত্রুতার সম্পর্ক নীর আর মিরার ভালোবাসার বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। নীল আর মিরার এই সম্পর্কের কথা ওদের বন্ধু আর কাজিনরা ছাড়া কেউ জানে না।

নীল সিড়ি দিয়ে নামতে থাকে আর ভাবে কি করে শুভাকে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে মিরা কথা বাবাকে জানাবে।আর দেরি করা যাবে না।মিরা ছাড়া নীল এক মুহুর্ত ভাবতে পারবে না,,

ফুফুমাঃঐ যে নীল! কিরে সকাল সকাল কই গিয়েছিলি।সবাই তোর জন্য নাশতা না করে বসে আছে,,
ফুফিমার কথায় সিড়ি দিয়ে নামা নীলের দিকে আড়চোখে তাকাই শুভা,,
নীলঃ হুমম!অন্য মনষ্ক হয়ে। না মানে একটু ছাদে গেছিলাম।চেয়ারে বসতে বসতে,,
ফুফিমাঃ কিরে ওখানে বসছিস যে?
নীলঃ কেন? সমস্যা কি রোজ এখানেই তো বসি?
ভাবিঃ আগের দিন বাঘে খাইছে দেবরজী!
তুমি আর আগের সেই নীল নেই আর।এখন তোমার বিয়ে হয়েছে।তোমার কিছই এখন আর একা তোমার নেই সব কিছু ভাগ নেওয়ার লোক চলে এসেছে। তাই এখন তুমি তার পাশে গিয়ে বসে একসাথে নাশতা করবা বুঝলা?
নীলঃ হোয়াট ননসেন্স! কি বলছো এসব? আমি যা ছিলাম তাই থাকবো। এসব নিয়ম নীতি আমি মানতে পারবো না।জুস গ্লাসে ঢালতে ঢালতে,,একবার শুভার দিকে তাকিয়ে
নীলের বাবাঃ নীল! যা বলা হয়েছে বোঝার চেষ্টা করো।সব সময় নিজের জিদ দেখানো কি খুব প্রয়োজন

নীল বাবার কথা শুনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুভার পাশে গিয়ে বসলো।

শুভার খুব অস্বস্তি লাগছে,,তারপর নীল পাশে বসায় বুকটা ধুকপুক করছে,,
ফুফিতো খুব আদর করে খাবার প্লেটে উঠিয়ে দিচ্ছে।

নীলের বাবা ব্রেকফাস্ট শেষ করে উঠে যাওয়ার আগে নীল কে নিজের রুমে পারসোনাল কথা আছে বলে যেতে বললেন।

নীল কোনোরকমে ব্রেকফাস্ট করে উঠে গেলো।এই মেয়ের পাশে একদন্ড বসতে ইচ্ছে হচ্ছে না।

শুভা নীলের উঠে চলে যাওয়ারপথে চেয়ে রইলো।
ভাবি আর ফুফুমা পাশ থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখে।
ভাবিঃ বরেরা এমনি হয়। বেশি ভাব খাই। যখন এদের কাজের সময় হবে দেখবা কি করে তোমার পাশে ঘুরঘুর করে।
আচ্ছা চলো তোমাকে বাড়িটা দেখাই।বলে ভাবি শুভার হাত ধরে নিয়ে গেলো।

শুভাঃ আপনাদের বাগান টা তো খুব সুন্দর।কি সুন্দর ফুল কবুতর বলেই বসে থাকা কবুতরের কাছে ছুটে গেলো
ভাবিঃ তোমার ভালো লেগেছে শুভা?
শুভাঃ হ্যাঁ। খুব ভালো লেগেছে। আমি ঐ দোলনায় বসতে পারি?
ভাবি হ্যাঁ সুচক মাথা নাড়াতেই শুভা দৌড়ে দোলনায় বসলো।
ভাবিঃ তুমি জানো এই বাগান কবুতর দোলনা কার?
শুভা দোলনায় দোল খেতে খেতে বললো কার?
ভাবিঃ নীলাদ্রির।
শুভাঃ সেটা আবার কে?
ভাবি দেখলো নীল এদিকটায় আসছে।ভাবির মনে দুষ্ট বুদ্ধি আসলো,,
ভাবিঃ ওমা! তুমি নীলাদ্রিকে চেনো না?
শুভা ভাবির এমন কথায় দোল খাওয়া থামিয়ে দিলো।
শুভাঃ না! অসহায়ভাবে তাকিয়ে
ভাবিঃ সমস্যা নেই। এখন পরিচয় করিয়ে দেবো।বলেই সামনে থেকে সরে গেলো।
শুভা তো নীল কে এদিকে আসতে দেখে শাড়ির আঁচল ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো,,,

Next part ➡Please wait 1das

179 total views, 9 views today

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here