💞মায়াবতী বউ💞 পর্বঃ২

0
34

নীলকে সামনে আসতে দেখে জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে পড়ে,,
নীলের গায়ের পারফিউমের গন্ধ আরো বেশি নার্ভাস করে দেয় শুভাকে,,

নীল একবার শুভার দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়।অদ্ভুত মায়া কাজ করে এই মেয়েতে নীলের।
নীল কোনোভাবেই জড়াতে চাই না এই মেয়ের মায়ায়।কারন ও মিরাকে কষ্ট দিতে কোনোদিন পারবে না।

নীলঃভাবি তোমার সাথে একটু জরুরি কথা ছিলো,আমার সাথে চলো,,
ভাবিঃহুমমম! জানি জানি কি জরুরি কথা।
চলো,,
শুভা তুমি একটু বসো আমি আসছি।
নীল আগে আগে হাটতে লাগলো,,ভাবি যাওয়ার আগে শুভাকে কানে কানে বলতে লাগলো,,
ভাবিঃজরুরি কথা না ছাই,,তোমাকে দেখার বাহানা বুঝছো।ভালোই তো জাদু করে ফেলছো দেবরটাকে আমার😉দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে চলে যায়।

কিছুদূর গিয়ে,,
নীলঃ ভাবি আমি খুব বড় রকমের সমস্যায় পড়েছি। তোমার সাহায্য লাগবে,,
ভাবিঃ হুমম,হুমমম আমি জানি তো কি সাহায্য লাগবে।বউয়ের সাথে একা সময় কাটাতে চাও তো।ওক্কে নো প্রবলেম ব্যবস্থা হয়ে যাবে।তার জন্য অবশ্য ঘুষ লাগবে,হাসতে হাসতে কথা টা বললে।
নীলঃ ভাবি প্লিজ! আই অ্যাম সিরিয়াস ভাবি।
ভাবিঃ ওকে ওকে। নাও আই অ্যাম সিরিয়াস।বলো মুখ টিপে হেসে।
নীল বুঝতে পারছে ভাবি দুষ্টুমির মুডে আছে।এই সময় ভাবির এই দুষ্টুমি নীলের কাছে বিরক্তিকর লাগছে,,
তাই কথা না বলে চলে যেতে নিতেই ভাবি হাত ধরে ফেলে
ভাবিঃ আচ্ছা সরি! বলো কি বলবে?
নীলঃ কিভাবে শুরু করবো ভাবি। কিন্তু যে করেই হোক কথাটা আমাকে বলতেই হবে
আমার জীবন মরন জরিয়ে রয়েছে এই কথায়।
ভাবির মনে কেন যেন অজানা আতঙ্ক ঢুকে গেলো নীলের এমন কথা শুনে,,
ভাবিঃ নীল কি বলতে চাচ্ছ তাড়াতাড়ি বলো।ভয় হচ্ছে কিন্তু
নীলঃ কিছুক্ষণ কপাল চুলকিয়ে বলতে লাগলো,,ভাবি আমি অন্য কাওকে ভালোবাসি এক নিঃশ্বাসে কথাটা চোখ বন্ধ করে বললো।
ভাবিঃ কি???? তুমি জানো নীল তুমি কি বলছো।এসবের মানে কি?
নীলঃ ভাবি please try to understand. তুমি ভালো করেই জানো বিয়েটা কোন পরিস্থিতিতে হয়েছে। আমার কোনো উপায় ছিলো না তখন।কিন্তু তাই বলে যাকে ভালোবাসিনা তাকে নিয়ে ঘর করতে পারা its impossible for me.
ভাবিঃ খুব সহজে কথাটা বলে ফেললে নীল।তোমার কাছে আমি এমন আচরন আশা করিনি। কি করে পারো একটা মেয়ের জীবন নিয়ে খেলতে।এই এতিম মেয়েটার কি হবে একবার ভেবেছ তুমি।যেমন পরিস্থিতিতেই বিয়েটা হোক শুভা শরিয়ত মোতাবেক তোমার বউ।তোমার দায়িত্ব শুভা।
স্বামী হিসেবে তুমি ওকে কোনো ভাবেই ইগনোর করতে পারবে না।
নীল ভাবির এমন কথায় ভেতরে ভেতরে আরো চিন্তিত হলো।ভেবেছিলো ভাবি হয়তো ওর সমস্যা টা বুঝবে কিন্তু না ভাবি তো কালকে আসা মেয়েটার জন্যই ভাবছে।
নীলের মাথায় কাজ করছে না কিছু
নীলঃ স্বামী হিসেবে ওর দায়িত্ব আমি ডিভোর্স দিয়ে তো শেষ করতে পারবো?
ভাবিঃ নীল?
নীলঃ ভাবি তোমরা কেউ আমার সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করছো না।আমি মিরাকে ভালোবাসি ওকে ছাড়া অন্য কারো সাথে সংসার করা আমার জন্য অসম্ভব।
ভাবিঃ মিরা!!??? কোন মিরা মাহবুব আঙ্কেলের মেয়ে মিরা?
নীলঃ হুমম
ভাবিঃনীল তুমি কি বলছো এসব।তোমার একটা ভুল ডিসিশন দুটো পরিবারের মধ্যে দেবে থাকা লাভা কে যে জাগিয়ে তুলবে,,
প্লিজ নীল যা হয়েছে মেনে নাও প্রথমে সমস্যা হলেও পরে ঠিক হয়ে যাবে দেখে নিয়ো,,
নীলঃভাবি তোমাকে সমস্যার কথা বলেছি মিরা কে ছাড়বো বলে না,ঐ মেয়েকে ছাড়বো বলে,,তোমার জ্ঞান তুমি রাখো,,আমার যা করার আমি তাই করবো,,
বলেই মৌ ভাবির সামনে থেকে চলে যায়,,
মৌ থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকে,, কি বললো নীল এই মাত্র মৌ যেন বিশ্বাসই করতে পারে না,, পায়ের নিচের মাটি মনে হয় কাঁপছে মাথাটা হ্যাঁং হয়ে আছে কি শুনলো,,কি হবে এখন বড় রকম ঝড়ের আভাস পাই মৌ ভাবি।
বড় বৌ হিসেবে মৌর দায়িত্ব যে অনেক। এই বাড়ির মানসম্মান সব যে এখন ওকেই বাচাতে হবে,,কি করবে মৌ ভাবতে ভাবতে শুভার কাছে যায়,,
শুভা ভাবিকে কাছে আসতে দেখে ভাবির কাছে যায়।
শুভাকে সামনে দেখে জোর করে একটা হাসি দেয়,,
ভাবিঃ চলো শুভা ভেতরে চলো,,আকাশের অবস্থা বেশি ভালো না, মনে হয় খুব ঝড় হবে,,
শুভা ভাবির কথামতো ভাবির সাথে বাড়ির ভেতরে যায়,,
সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই হোঁচট খায় ভাবি,,
শুভাঃ ভাবি সাবধানে,, কি হয়েছে আপনার?না ধরলে তো এখনি পড়ে যেতেন,,হাত এভাবে কাঁপছে কেন?
শুভার কথা শুনে ভাবি হকচকিয়ে গেল,,
ভাবিঃ না না কিছু হয়নি,,হঠাৎ মাথাটা ধরেছে,,
তুমি ফুফিমার রুমে গিয়ে বসো আমি আসছি,,
কাজের মেয়েকে দিয়ে ফুফির রুমে পাঠিয়ে দিলো শুভাকে মৌ,,
শুভা যাওয়ার সময় বার বার পেছন ফিরে ভাবিকে দেখছিলো,,শুভার ভেতরটাও কেমন যেন করছে,উনি কি এমন বললো যার কারনে ভাবিকে দেখাচ্ছে,,
ভাবির খুব মায়া হয় শুভাকে দেখে,,

নীল রুমে এসে ফুলের ভাছ টা ভেঙে ফেলে।
নীলের এই মুহূর্তে ইচ্ছা হচ্ছে পুরো পৃথিবী তছনছ করে দিতে,,

বিছানার উপর দুহাত কপালে ঠেকিয়ে বসে পড়ে,,দুচোখ দিয়ে না চাইতেও জল গড়িয়ে পড়ছে,,
ভেতর টা ভেঙে চুরে শেষ হয়ে যাচ্ছে,, ভাবি যদি এমন রিয়াক্ট করে তবে নীলের কষ্ট যে আর কেউ বুঝবে না,,
মিরাকেও বলতে পারছে না যদি মিরা ভুল বোঝে,,।
নীলঃ উফফ আর ভাবতে পারছি না,,

মিনু( কাজের মেয়ে)ঃ ভাবি ফুফুমা তো এখন নামাজে বসেছে আপনি বরং নিজের ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিন।কাল থেকে তো মনে হয় তেমন বিশ্রাম নিতে পারেন নাই।

শুভাঃআমি ঘরে একা একা কি করবো? তার চেয়ে তোমার সাথে থাকি?
মিনুঃ আমার সাথে থেকে কি করবেন।শুধুই কষ্ট হবে,,তাছাড়া ফুফু যদি দেখে আপনাকে কোনো কাজ করতে আমাকে বকবে। আপনি তো নতুন বউ।
শুভা কি বলবে বুঝতে পারে না।যদি রুমে ডুকে উনাকে পায়।শুভা নীল কে কেন যেন ভয় পাই,,নীল কে আশেপাশে দেখলে শুভার বুক কাঁপে,,

মিনুঃ এ বাড়ির মানুষ গুলো খুব ভালো শুধু ছোট আপাটা একটু বদরাগী,, সবার সাথে কেমন যেন ব্যবহার করে,,তয় আপনি যে জামাই পাইছেন সাধনা করলে এমন জামাই কপালে পাওয়া যায়,,সেদিক দিয়ে আপনার শুকরিয়া করা উচিত,,

শুভাঃ আমার মতো মেয়ের আবার ভাগ্য,, যার স্বামী বাসর রাতে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে আসে,, মনে মনে শুভা বলে,,,

মিনু শুভাকে রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে নিচে চলে যায়,,

শুভা ভেতরে ঢুকতেই দেখে নীল ঝুকে কাপলে হাত দিয়ে বসে আছে,,পাশে ফুলদানি টা ভেঙে চুরচুর হয়ে আছে,,
শুভার খুব ভয় লাগে,,এক পা এগিয়ে আবার পিছিয়ে নেয়,
শুভাঃ শুভা তোকে এতো ভয় পেলে হবে না,,দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মনে মনে বলে,,,

নীল দরজা খোলার শব্দে মাথা উচু করে দেখে সামনে শুভা চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে,,

শুভা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ খুলতেই নীলের চোখে চোখ পড়ে যায়,,
রক্ত বর্ণ হয়ে আছে চোখ দুটো,,কলিজা শুকিয়ে যায় শুভার,,
দরজা দিয়ে বেড়োনোর জন্য যেই না দরজায় হাত দিয়েছে,,
নীলঃ কোথায় যাচ্ছ?
শুভা থমকে দাড়ায় নীলের এমন গম্ভীর কথায়, হাত পা মনে ঠান্ডা হয়ে আসছে,,
নীলঃ আমি কিছু বলছি তোমায়?
শুভাঃ জ্বী! মানে,,নীলের দিকে নিচু হয়ে ঘুরে,
নীল এক ঝটকায় এসে দরজার সাথে শুভার বাহু ধরে চেপে ধরে খুব জোরে,,
নীলের এমন আকস্মিক চেপে ধরায় শুভা কেঁপে ওঠে,,নীলের চেপে ধরা বাহুতে খুব ব্যথা পায় শুভা ব্যথায় কেঁদে দেয়,,
নীলঃসব সময় মানে মানে কি? হ্যাঁ?শুভার দিকে তাকিয়ে বলতে গিয়ে দেখে শুভা ভয়ে কুঁকড়ে উঠছে সাথে ফুঁপিয়ে কাদছে,,
শুভার চোখের জল দেখে ছেড়ে দেয় শুভাকে,,
দেখো মেয়ে আমার সামনে এসব কান্নাকাটি করবা না?
নীলঃ এই মেয়েকে কি সত্যি টা বলে দেবো,,না থাক এখন সব সত্যি না বলায় ভালো হবে,,তার চেয়ে এ বাড়িতে ওর সিচুয়েশান এমন করে দেবো যে ও নিজেই এখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হবে,,,মিরাকে নিজের করতে আমি সব করবো,,( মনে মনে)
যাও গিয়ে ফ্লোর থেকে ভাঙা ফুলদানির টুকরো উঠিয়ে ফেলে আসো,
বলেই বিছানায় গিয়ে শুয়ে মোবাইল চালাতে লাগলো নীল,,

শুভা চোখের জল মুছতে মুছতে ভাঙা ফুলদানির টুকরো গুলো গোছাতে গিয়ে হাত কেটে যায় শুভার নীল দেখেও না দেখার ভান করে,,, হাতে কেটে যাওয়ার ব্যথা থেকে বেশি ব্যথা লেগেছে মনে নীলের ব্যবহারের কারনে,,

শুভা ভাঙা টুকরো গুলো একত্রিত করে ফেলে দেয়,,,,
তারপর এসে দাড়িয়ে থাকে চুপচাপ,,

নীলঃ কি ব্যাপার দাড়িয়ে আছো কেন এখানে,,,
শুভাঃ এখন কি করতে হবে আমি তো জানি না,,
নীলঃ তাই নাকি?তো তুমি কি চাচ্ছ আমি তোমায় বলে দেবো এখন কি করতে হবে?
শুভা এবার আর কোনো জবাব দেয় না,,
নীলঃ এদিকে আসো,,,,
শুভা নীলের কাছে আসতেই নীল পেছন থেকে শুভার চুল ধরে নিজের আরো কাছে নিয়ে আসে,,,
শুভার মুখের উপর নীলের প্রতিটি নিশ্বাস পড়ছে,,
শুভা চোখ বন্ধ করে আছে,,,
নীলঃতোর যা খুশি কর,, কিন্তু আমার চোখের সামনে থেকে যা,,সহ্য হয় না তোকে আমার,,বলে ফ্লোরে ধাক্কা মারে শুভাকে,,

নীল বাইরে চলে যায়,,,

শুভা হাতে খুব ব্যথা পায় আবার,,কেটে যাওয়া জায়গা থেকে এখনো রক্ত পড়া বন্ধ হয় নাই,,,
শুভা ব্যথার চেয়ে ভয় আর কষ্ট বেশি পেয়েছে,,

শুভা উঠে ওয়াশরুমে যায় শাওয়ার টা ছেড়ে চিৎকার করে কাঁদে,,
শুভাঃ আর পারছি না আমি আল্লাহ,,ছোট থেকে মামীর অত্যাচার সহ্য করে বড় হয়েছি,, ভেবেছি স্বামীর সোহাগ পাবো? কিন্তু কপাল পোড়া মেয়েদের যে কপালে কোনোদিন সুখ হয় না,, আমাকে ধৈর্য দাও প্রভু,,

নীল বাবার রুমে ঢুকতেই দেখে বাবা আর ফুফু বসে কথা বলছে,,
নীলঃ বাবা আসবো?
বাবাঃ হ্যাঁ আয়,,,,
নীল আমি জানি বিয়েটা তোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে তাই আমি চাইবো তুই বিয়েটানমন থেকে মেনে নে,,,আমি কিছুদিনের মধ্যেই তোদের জন্য বড় করে বিয়ের রিসেপশন রেখে তোদের বিয়ের বিষয়টা সোসাইটিকে জানাতে চাই,,,
নীলঃ বাবা! আমার কিছু কথা ছিলো,,
বাবাঃ হুমম বল,,
নীলঃ বাবা এই বিয়ে মানা আমার পক্ষে কঠিন,,
বাবাঃ কি বলতে চাচ্ছিস? আমার কথা কি তুই অমান্য করবি,,,
নীলঃ বাবা আমি সেটা বলতে চাচ্ছি না,,আমি শুধু বলছি ওর বয়স তো ১৮ বছরের কম হবে,,তুমি যদি এখনি বিয়ের বিষয়টা সোসাইটি কে জানাও তো বিষয়টা ভালো চোখে দেখবে না কেউ,, তাই বলতে চাচ্ছিলাম,,ওর ১৮ পূর্ণ হলে না হয় সোসাইটি কে জানিয়ো,

তাছাড়া এখন তো ও খুব ছোট,,এখন ওকে এতো প্রেশার দেওয়া ঠিক হবে না,,
আমি ওর জীবন নষ্ট কতে চাইনা বাবা,,

ও কলেজে ভর্তি হোক উচ্চমাধ্যমিক পাস করুক তারপর ওকে আমি বউ হিসেবে মেনে নেবো,,

বাবাঃ আসলেই তো ঠিক বলেছিস,,আমি খুব খুশি হয়েছি বাবা তোর কথায়,,আমার মনে ভয় ছিলো ঐ এতিম মেয়েটাকে তুই মেনে নিবি নাকি,,
কিন্তু না তোর কথা শুনে আমার বিশ্বাস জেগেছে শুভার জন্য তোর চেয়ে উত্তম স্বামী আর হবে না,,

ফুফিমাঃ নীল সত্যি তোর মতো ছেলে হয় না,,,
আচ্ছা যা বাবা গিয়ে বিশ্রাম নে,,

নীলঃ জ্বি ফুফিমা,,,

নীল রুম থেকে বেড় হতেই দেখে বাইরে ভাবি চায়ের ট্রে নিয়ে দাড়িয়ে আছে,,

ভাবিঃকেন মেয়েটা জীবন নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছো তুমি,,
নীল পাশ কেটে যেতেই ভাবির কথা শুনে থেমে যায়,,

নীলঃ আমাকে বলছো?
ভাবিঃএমন তো ছিলে না নীল তুমি? নাকি আমার এতোদিনের ধারনা ভুল ছিলো,,
এতো নিষ্ঠুর কি করে হতে পারো তুমি?

নীলঃকি বলছো? কি করেছি আমি

ভাবিঃ নেকামি করো না,,এইমাত্র তোমার রুম থেকে আসলাম,,কেন কষ্ট দিচ্ছো শুভাকে,,
ওর কি দোষ?

নীলঃ ওহ্ সব বলে দিয়েছে তোমায়,,দেখতে তো সহজ সরল ই মনে হয়,, আর ওর কি দোষ জানতে চাও,,, ওর দোষ ও আমার আর মিরার মধ্যে এসেছে,,

ভাবিঃ শুভা প্রকৃত অর্থেই সহজ সরল একটা মেয়ে।ও আমাকে কিছুই বলে নি,, একদিন তুমি নিজেও এই মেয়েটার মায়ায় পড়ে যাবে দেখে নিয়ো,,

নীলঃ হাহাহাহা,,,তাই নাকি? ভুল ধারনা তোমার,,

ভাবিঃ তুমি বিয়ে করা বউকে এতো কষ্ট দিচ্ছো এটা যদি মিরাকে জানায় তখন?
নীলঃ ভাবি! তাহলে তা হবে চরম ভুল,,
আর এর ভয়ংকর ফল ভোগ করবে ঐ মেয়ে,, যার জন্য দায়ী থাকবে তুমি,,,রাগে দাতে দাত চেপে,,

ভাবিঃ নীল শোনো,, নীল,,,,,,
নীল আর একমুহূর্ত না দাঁড়িয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়

নীল গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে গেলো,,
অনেকদিন কাজের জন্য ক্যাম্পাসে আসা হয় না,,

ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেখে রিয়াদ,নিঝুম,রোদেলী,মুন্না,মোহিত সব বসে আড্ডা দিচ্ছে,,
রোদেলীকে ওদের সাথে দেখে ভয় পায়,,রোদেলী আবার ওদের বলে দিলো না তো সব?

নীলকে ওদের দিকে আসতে দেখে মোহিত নীল নীল বলে আওয়াজ দিলো,,

রিয়াদঃ কিরে হিরো, এতো দিন পর মনে পড়লো আমাদের,,
নীলঃ আরে তেমন কিছু না।জানিস ই তো বাবার ব্যবসার কাজে এখন আমাকে ভাইয়ার সাথে হেল্প করতে হয়,,
নিঝুমঃ ওসব কিছু না,,আসল কথা তো লুকচ্ছিস,,

নীলঃ কিইইই বলতে চাচ্ছিস ঘাবড়ে যায় নীল,,

রোদেলীঃ আরে নীল ওরা তোর সাথে মজা করছে,,তোকে ইচ্ছে করে নার্ভাস করে দিচ্ছে মিরার সামনে,,
নীলঃ মিরার সামনে মানে??
মোহিতঃ মানে মিরা এখন ঠিক আপনার পেছনে দাড়িয়ে,,
নীলঃ পেছনে তাকাতেই দেখে মিরা দাড়িয়ে আছে,,
নীলের তাকানো দেখে সবাই হো হো করে হেসে দেয়,,

নীলঃ শালা! তোরা দিনদিন বদের হাড্ডি হয়ে যাচ্ছিস,,তোদের জন্য এখনি হার্ট অ্যাটাক হতো

হঠাৎ নীলের হাত ধরে মিরা টেনে নিয়ে যায় সবার সামনে থেকে

খালি ক্লাসে নিয়ে এসে জরিয়ে ধরে নীল কে মিরা,,,
নীল মিরার মাথায় হাত রাখতেই বুঝতে পারে মিরা কাঁদছে
নীলঃ এই মিরু কি হয়েছে তোর? কাঁদছিস কেন পাগলী,,
মুখ উঁচু করে থুতনি ধরে বলে নীল,,
মিরাঃ নীল তোকে ছাড়া আমি বাঁচবো না রে,, বিশ্বাস কর কানাডা যাওয়ার পর প্রতিটা দিন আমি তোকে শুধুমাত্র তোকে নিয়ে ভেবেছি। খুব মিস করেছি রে,,এখন আমি বুঝতে পেরেছি তোকে ছাড়া আমার জীবন তুচ্ছ,,

নীলঃ আমার জীবনও তোকে ছাড়া তুচ্ছ,,মূলহীন,,

মিরার চোখের পানি মুছিয়ে,,বুকে জরিয়ে নেবে তার আগে ক্লাসরুমের বাইরে কারো পায়ের শব্দ পেয়ে দূরে সরে দাঁড়ায়,,
মোহিতঃ লাভ বার্ডকে ডিস্টার্ব করলাম মনে হয়?

নীলঃ বুঝতেই তো পারছিস সব তাহলে কেটে পর,, আর হ্যাঁ আামাদের দুজনের মাঝে তোকে কি সবসময় আসতেই হবে,,,

মোহিতঃ রিলাক্স দোস্ত! রেগে যাচ্ছিস কেন? আমি তো মজা করছিলাম,,তোদের মাঝে আমি কেন আসতে যাবো,,কি বলছে মিরা এসব ও,,

মিরাঃ নীল এসব কি বলছিস,,,

নীলঃ মিরু তুই চুপ কর! তুই জানিস না মোহিতের আসল মোটিভ,, জানলে তুইও এমন করতি,,

মোহিতঃ what’s wrong with u nil! আমার মোটিভ মানে,,কি বলছিস তুই,,

মিরাঃ নীল কি শুরু করলি?প্লিজ সিনক্রিয়েট করিস না বলে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যায়,,
কি হয়েছে রে তোর মোহিতের সাথে মিসবিহেভ কেন করলি?

নীলঃ তুই জানিস মোহিত তোকে লাইক করে,,
মিরাঃ হ্যাঁ জানিতো,,সেই ছোট্ট বেলা থেকে। মোহিতের বোন মুনা বলেছিলো,তাতে কি।

নীলঃ তাতে কি?ঐ তুই শুধু আমার।

মিরাঃ যাহ বাবাহ আমি কি বলেছি আমি মোহিতের😜 আরে ও তো আমাকে বন্ধু হিসেবে লাইক করে,,

নীলঃ মিরু বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু? মুড এমনিতেও খারাপ তার উপর তোর এসব ফালতু কথা শুনে আরো খারাপ লাগছে,,,
নীল রেগে ফোসফাস করতে লাগলো,,

মিরাঃ ওকে ওকে আমার পাগল টা। আর বলবো না। এই দেখ কান ধরছি,,বলে নীলের কানে হাত দিলো,,

নীল মীরার হাত ঘুরিয়ে মুচড়ে ধরে খুব কাছে নিয়ে আসলো মিরা কে,,
নীলের প্রতিটি নিশ্বাস মিরার বুকের হৃদস্পন্দনের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে,, না চাইতেও লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে,,

নীলের নিশ্বাসের শব্দ যেন আরো কাছে আসছে মিরার,,মিরা খেয়াল করে নীলের ঠোট দুটো ক্রমশ মিরার ঠোটের দিকে আসছে,,মিরা নার্ভাস হয়ে পড়ে,,চোখ বন্ধ করে ওড়নার আচলে হাত মুঠ করে রাখে,

বাইরে হঠাৎ উঠা দমকা হাওয়া শুরু হয়ে যায়,,এক পশলা হিমেল বৃষ্টি ছুয়ে যাই নীল মিরাকে,,
শিহরণ জাগিয়ে দেয় মিরার সমস্ত শরীরে,,

নীল যেই না মিরার ঠোটের পরশ নেবে ওমনি দুচোখে শুভার অশ্রুসজল মুখটা ভেসে ওঠে
এক ঝটকায় ছেড়ে দেয় মিরাকে,,

মিরা খুব লজ্জিত হয় নীলের এমন আচরনে দৌড়ে চলে যায়,,
নীল পেছন থেকে মিরা ডাকতে গিয়েও থেমে যায়,,,

শুভা জানালার গৃল ধরে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে,,কেন যেন বৃষ্টিকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয় শুভার,,কেননা বৃষ্টি তার সকল দুঃখ কষ্ট অবাধে জরিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর বুকে,,কিন্ত শুভা তো পারছে না ওর দুঃখ কষ্টগুলে কাওকে বলতে, নিজের থেকে করতে,,
খুব ভিজতে ইচ্ছা করছে শুভার আজ,,

নিজের বেখেয়ালি মনে নীলের শখের বাগানের দোলনায় বসে ভিজতে থাকে শুভা,,,

আকাশের দিক মুখ করে চোখ বন্ধ রেখে বৃষ্টি প্রতিটি ফোটা অনুভব করতে থাকে,,,

নীল বৃষ্টির মধ্যেই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি চলে আসে,,
নিজের কাজেই নিজের রাগ হয়,, মিরু ওর কারনে আজ কষ্ট পেয়েছে,,
আসার সময় একটা কথাও বলে নাই নীলের সাথে,,

বাড়ির ভেতর ঢুকতে যাবে তার আগেই দেখে কেউ দোলনায় বসে ভিজছে,,

কৌতূহল নিয়ে সামনে এগোতে দেখে শুভা আকাশ পানে চোখ বন্ধ করে বসে ভিজছে,,

নীলঃ আজ ওর কারনে মিরুকে কষ্ট দিলাম,,বৃষ্টিতে আনন্দ করা বের করছি তোর,, মনে মনে বলে,,

খুব আনন্দ লাগছে তাই না?

পুরুষালী কন্ঠ শুনে চমকে যায় শুভা উঠে দাড়াতেই নীলকে সামনে পাই,, ভিজে কাক ভেজা হয়ে গেছে নীলের চুল বেয়ে টপটপ করে জল পড়ছে,, শুভা বিভোর হয়ে চেয়ে রয়,,
জীবনে স্বপ্নেও ভাবে নি এমন সুদর্শন সুপুরুষ ওর মতো এতিম গরিব মেয়ের স্বামী হবে,,
বিয়ের আসরে প্রথম নীলকে দেখে প্রেমে পড়ে যায় শুভা,,

নীলের ঝাকনিতে ঘোর ভাঙে শুভার,,

নীলঃআমার ভেতরে আগুন লাগিয়ে খুব তো ঠান্ডা হচ্ছিস বৃষ্টির পানিতে তাই না,, শুভার বাহু ধরে খুব জোরে চাপ দিয়ে বলে,,
নীলের হাতের চাপে খুব ব্যথা পায় শুভা,,
শুভাঃ আহ্!
নীলঃ আমার জীবনে সাপের মতো কুন্ডলী পাকিয়ে বসে আছিস তাই না,,সব জায়গাতে কেন দেখি তোকে,,কেন বল কেন?
তোকে কষ্ট দিলে কেন মনে হয় পাপ করছি বল কেন?
কি হোস তুই আমার,,,
শুভা শুধু ব্যথায় কোকড়াতে থাকে,,,মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হয় না নীলের রাগ দেখে,,
নীল খেয়াল করে শুভার চোখ ব্যথায় লাল হয়ে আছে,,,
চোখ থেকে দৃষ্টি সরাতেই শুভার গোলাপি ঠোঁট আকৃষ্ট করে নীল কে,,ভিজা শরীরে শুভাকে মিরা ভেবে ঘোরের মধ্যে চলে যায় নীল,,
মিরাকে আর কষ্ট পেতে দেবে না নীল,,,

তাই শক্ত করে নিজের ঠোট দুটোকে ওর ঠোটে চেপে ধরে,,,অনেকক্ষন ধরে ঠোঁটের স্বাদ নেয়,,
ঠোট থেকে ঠোঁট ছাড়াতেই সামনে দেখে শুভার মুখ,,,
এক ঝটকায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় শুভাকে,,
নিজের ঠোঁটে হাত দিয়ে দ্রুত পায়ে ঐ জায়গা থেকে চলে যায়

শুভা বুঝতে পারে না কেন নীল ওকে কাছে টানে আর কেনইবা এভাবে ছুড়ে ফেলে দেয়,,

একটা এতিম মেয়ে বলেই হয়তো এতো অত্যাচার সইতে হয় শুভাকে,,,
বাগানের ঘাসের ওপর বসে কাঁদতে থাকে,,বৃষ্টির পানিতে সেই জল মিশে একাকার হয়ে যায়,,

ভাবিঃশুভা!এই মেয়ে এভাবে বৃষ্টিতে ভিজছিস কেন? ঠান্ডা বাঁধিয়ে নিবি তো,,,ছাতা মাথায় শুভার দিকে আসতে আসতে বলে,,
এই শুভা কি হয়েছে এভাবে মাটিতে বসে আছিস কেন,,
শুভা ভাবিকে আচমকাই জরিয়ে ধরে কাঁদতে থাকে,,
ভাবিঃ এই মেয়ে এভাবে কাঁদছিস কেন? আমাকে বল?মাথায় হাত রেখে বলে,,
না শুভা কোনো কথা বলে না শুধু কেঁদেই যায়,,
ভাবি কোনোমতে শুভাকে নিজের রুমে নিয়ে তাওয়াল দিয়ে চুল মুচতে থাকে,,
শুভা এখনো নিথর নিস্তব্ধ হয়ে আছে একদৃষ্টিতে চেয়ে,,,
ভাবি শুভা কাছে গিয়ে বসে তারপর শুভার মাথাটা নিজের কাধের উপর রাখে,,
ভাবিঃ কি হয়েছে বল না শুভা,,

শুভাঃ ভাবি আমাকে একটা সত্যি কথা বলবে,,

ভাবিঃ কিইইই?কিছুটা থতমত খেয়ে বলে,,

শুভাঃ উনি কি অন্য কাওকে পছন্দ করেন,,

ভাবিঃ কি বলছিস বোকা মেয়ে এসব,,এসব বলতে হয় না,,

শুভা একটানে ভাবির হাতটা নিজের মাথার উপর ধরে,,
শুভাঃ আমার কসম! সত্যিটা বলো,,আমি আর পারছি না বিয়ের রাত থেকে এ পর্যন্ত তার ব্যবহার মেনে নিতে,,সে কি আমাকে বউ হিসেবে মানে না?

ভাবিঃকি করছিস কি তুই,,, তুই যা ভাবছিস তেমন কিছুই না,,নিজের হাতটা শুভার মাথা থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে,,

শুভাঃ যদি তাই হয়,, তাহলে সে আমাকে দেখরে কেন এড়িয়ে যায়,, বুঝলাম তার সাথে বিয়েটা আমার হঠাৎ হয়েছে কিন্তু তাই বলে সে এমন করবে কেন?কেন বার বার বলে আমি তার পথের কাটা,,ভাবি আমাকে সত্যি টা বলো,, আমি চাই না মিথ্যা সম্পর্ক,,,

ভাবিঃ তাহলে কি চাস?

শুভাঃ জানিনা,,তবে তার এমন আচরন আমি সইতে পারছি না,,কষ্ট হয় খুব,,
ভাবি তুমি জানো?খুব ছোট বেলায় বাবা মা কে হারিয়েছি,,মামীর সংসারে উচ্ছিষ্ট হয়ে বেঁচে ছিলাম,,মাইর গালী ছাড়া কিছু পাই নাই,
ছোটবেলা নানীর আঁচলের নিচে মুখ লুকিয়ে কাঁদতাম খুব,,নানী সান্তনা দিতো,,
মানুষের অনেক অপমান সয়েছি কিন্তু উনার টা কেন যেন সয়তে পারছি না আমি,,

ভাবিঃ সত্যিটা শুনতে চাস? তাহলে শোন হ্যাঁ নীল তোকে ভালোবাসে না?তোকে বউ ও মানে না,,

শুভার চোখ বেয়ে অশ্রুধারা নামতে শুরু করলো,,
শুভাঃ ঠিক ই আছে,,আমার মতো গরিব এতিম অল্প শিক্ষিত মেয়েকে উনি কেন ভালোবাসতে যাবেন আর কেনইবা বউ মানতে যাবে,,

ভাবিঃ তাহলে এখন কি করবি তুই?

শুভাঃকি আর করবো? মামাবাড়ি ফিরে মামীর বোঝা বাড়াতে পারবো না তবে আল্লাহর দুনিয়ায় কোথাও তো জায়গা হবে সেখানে চলে যাবো তবু কারো কষ্টের কারন হতে চাই না আমি,,অভিমান নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাটা বললো শুভা,,

ভাবিঃ আরে বোকা একটা,,এই টুকু বয়সে এতো অভিমান,, তোর স্বামী তোকেই বউ মানে বুঝলি,,শুভার মাথায় হালকা করে চড় দিয়ে হেসে বললো,,

শুভাঃতাহলে যে বললে উনি আমাকে ভালোবাসে না,,,জিঙ্গাসু নয়নে বললো

ভাবিঃ আরে পাগলি মেয়ে তোদের যে অবস্থায় বিয়েটা হলো তাতে তো এটাই স্বাভাবিক। এতো তাড়াতাড়ি কি করে ভালোবাসবে,,একটু সময় দে দেখবি তোকেই ভালোবাসবে,,,
শুভার থুতনি ধরে বলে,,,
আচ্ছা এখন রুমে গিয়ে কাপড় পাল্টে নে নয়তো ঠান্ডা জ্বর বাঁধিয়ে নিবি

রুমে যাওয়ার কথা শুনে বুকের ভেতর ছ্যাত করে ওঠে শুভার কারন নীল যে বাড়িতে,,

ভাবিঃ আমাকে ক্ষমা করে দিস শুভা? আমি তোর কাছে সত্যি গোপন করলাম।আমি জানি নীলের জন্য তুইই ঠিক,তাই এখন সত্যিটা তোকে না জানানোই ভালো,,

তবুও ভাবির জোড়াজুড়িতে রুমের দরজার কাছে আসলো,,এসে আর পা বাড়ানোর সাহস পায় না,,
অনেক ক্ষণ পর সাহস নিয়ে দরজার হাতলে যেই না হাত দিয়েছে ওমনি ওপাশ থেকে দরজা খুলে যায়।সামনে নীল দাঁড়িয়ে থাকে,,দরজা খুলতেই দুজনের চোখাচোখি হতেই শুভা চোখ নামিয়ে নেই লজ্জায়,,গুটিশুটি মেরে দাড়িয়ে থাকে,,

নীলঃ এই মেয়েকে দেখলে রাগ হওয়ার জায়গায় হাসিই পাই। কেমন ভয়ে দাড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে আমি বাঘ।মনে মনে মুচকি হেসে বলে,,

তৎক্ষনাৎ কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা মনে পড়তেই খারাপ লাগে নীলের

নীলঃ দেখো মেয়ে তখন যা হয়েছে তারজন্য ***

নীলের কথা শেষ হওয়ার আগেই শুভা দৌড়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে,,
নীলের তো সেই লেভেলের রাগ ওঠে,,

নীলঃএই মেয়ের সমস্যাটা কি,, নিজেও সব সময় মানে মানে করে,, আবার আমি কিছু বলতে গেলেও শোনে না,,

শুভা রুমে এসে কাপড় নিয়ে তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে ঢুকে যায়,,
শুভাঃ এই যা! উনি যেন কি বলছিলো, আমি তো কথা না শুনেই দৌড় দিলাম ভয়ে,,উনাকে দেখলেই কেন যেন ভয় লাগে আমার,,
গোসল করে চুপচাপ শুয়ে পড়বো,,নয়তো ভাবির রুমে গিয়ে বসে থাকবো,,
এবার সামনে পেলে মনে হয় আস্ত রাখবে না,,

শুভা কে কিছু বলবে তার আগেই মোবাইল টা বেজে উঠলো নিলের।হাতে নিতেই দেখে নিঝুম কল করেছে,,

নীলঃ হ্যাঁলো নিঝুম বল!

নিঝুমঃঐ তুই কই?

নীলঃ কেন বাড়িতে,,,

নিঝুম এক্ষুনি আমাদের বাড়িতে চলে আই,,,

নীলঃ তুই কি পাগল? দেখছিস না বাহিরে কি পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে,, এর মধ্যে আমি আসতে পারবো না যা বলা ফোনেই বলতো,,

নিঝুমঃ ওহ্ বাহিরের বৃষ্টি তোর চোখের নজরে পড়েছে আর একটু আগে যে আরেকজনের চোখের বৃষ্টি ঝরিয়ে গেছিস সেটা?

নীলঃ what?

নিঝুমঃমিরা আমাদের বাসায়,, কি করেছিস ওর সাথে,, ওকে না কাদালে কি তোর দিন যায় না নাকি রে,,
এমন কেন তুই? একটা মেয়ে তোকে সমস্তটা দিয়ে পাগলের ভালোবেসেছে,, তাকে কি একটু সময় একটু ভালো কথা দিতে পারিস না,,,

নীলঃ মিরু তোর ওখানে?

নিঝুমঃ হুম,,আসার পর থেকে খুব কাদছে রে,,

নীলঃ আমি এখনি আসছি,,,

মিনুঃ ছোটভাইয়া খালুজান আপনেরে ডাকতাছে,,
নীল বাসা থেকে বের হতে যাবে ঠিক তখনি

নীলঃকি করবো এখন? আচ্ছা বাবার সাথে দেখা করে তারপর মিরার কাছে যাবো,,

নীলঃ বাবা আসবো?বাবার দরজায় টুকা দিয়ে,,

ইকবাল সাহেবঃ হ্যাঁ! আয় ভেতরে,,বস

নীলঃ কিছু বলবে বাবা?

ইকবাল সাহেবঃ কাল আমরা মাগুরা যাবো?

নীলঃ মাগুরা!এই সময় কেন?

ইকবাল সাহেবঃ হ্যাঁ। মা শুভাকে দেখতে চেয়েছে,,

নীলঃ দাদিকে ঢাকা নিয়ে আসলেই হয়,,বাড়িতে যাওয়া লাগবে কেন?

ইকবাল সাহেবঃ তা হতো কিন্তু ৩ দিন পর যে তোর ছোট চাচা মেয়ে মনিরার বিয়ে,,,

নীলঃ মনিরার বিয়ে?কবে ঠিক হলো,,,

ইকবাল সাহেবঃ আজ নাকি ছেলে পক্ষ দেখতে এসেছিল।কথা পাকাপাকি করে গেছে,, আমাকে তোর মিজান কল করেছিলো,,আমিই বলেছি বিয়ের জন্য রাজি হতে,,ছেলে ভালো তাই,,,

রাতের গাড়িতেই রওনা হব,, তুই বউ মা কে বলিস,, নিজেও তৈরি থাকিস,,,
আর একটা কাজ কর বাবা এক্ষুনি অফিস যা!বেশ কিছুদিনের জন্য বাড়ি যাচ্ছি তুই ইফতিকে অফিসের কাজ গুছিয়ে নিতে সাহায্য কর,,,

নীল বুঝতে পারে না এখন কি করা উচিত,, ওদিকে মিরা কাদছে,, এদিকে ভাইয়ার কাছে যেতে হবে,,,

ইকবাল সাহেবঃ কিরে কি ভাবছিস?

নীলঃ না কিছু না বাবা! আমি যাচ্ছি,,

নীল বাবার উপর একটা কথাও বলতে পারে না,,ভয়ে না বাবাকে অনেক সম্মান করে নীল,,
মা মারা যাওয়ার পর এই বাবাই আগলে রেখেছে ওদের দুই ভাইকে,,
ছেলেদের সুখের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে ছেলেদের প্রাচুর্যে সম্পদে রেখেছেন,,

নিঝুমঃ আর কাদিস সা নারে,,দেখ আমি নীল কে কল দিয়েছি,,ওএলো বলে,,আসলে ইচ্ছে মতো ঝেড়ে দেবো,,আমার জানটুস বান্ধবীরে শুধু কাঁদায়,,,

মিরাঃ তুই ওকে কল করেছিস কেন? আমি ওর কে?

নিঝুমঃ বাহ রে কখন থেকে কেদে যাচ্ছিস? তাই ওকে কল করেছি,, এই তোদের ঝগড়া দেখে দেখে আমার প্রেম করার স্বাধ মিটে গেছে,,

মিরাঃ ওর মতো ইগো ওয়ালা ছেলের সাথে আমার মতো মেয়ের কি করে ঝগড়া হবে বল,,ওর কাছে ওর রাগ ওর ইগোই সব,, আমার অনুভূতির কোনো মূল্য কি আছে ওর কাছে,,

নিঝুমঃ ছেলেরা এমনি! এক একটা আস্ত শয়তান,, নীলও তাই,,

মিরাঃ দেখ তুই আমার নীল কে শয়তান বলবি না,, ও মোটেও শয়তান না,,

নিঝুমঃ ওরে বাবা! এই মাত্র যে তুই ওকে কত্তগুলা কথা বললি সেই বেলায়,,,

মিরাঃ আমার যা ইচ্ছে তাই বলবো, তুই বলবি না,,নাকে কেঁদে কথা বলে,,,

নিঝুমঃ ক্ষেমা দে বইন! তোগো কাহিনি দেখে আমি শেষ,, কখন কি মুডে যে থাকিস,,আল্লাহ জানে আর তোরাই জানিস,,

মিরাঃ নিজে প্রেম করলে বুঝবি তখন,,,নাক টানতে টানতে

নিঝুমঃ কোনো দরকার নাই,,হুদাই নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার,,

হঠাৎ মিরার ফোনটা বেজে উঠল,,
মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে আসা নাম টা দেখে কান্না বন্ধ করে দিলো মিরা

লেখকঃ মেহেদী হাসান

Next part➡Please wait 1das

56 total views, 3 views today

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here