এই সাতদিন আফনের ঘরের দায় দায়িত্ব আমার

0
34

হ্যালো দুলাভাই, আমি আকবর। আকবর আলী!
রাত দুটায় কাঁচা ঘুম ভেঙে ফোন ধরলাম। আকবর আলী নামের কোন এক শালা ফোন দিছে। যদিও আকবর নামে আমার নিজের কোন শালা সম্বন্দি নাই! কিন্তু দুলাভাই বলে ডাকছে। রিহানের মায়ের সৎ ভাই নাতো!
আমার শ্বশুর আবার বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। গোপন সংসার হতে শালার উদয় হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।
– আকবর! আকবর নামে তো কাউকে চিনিনা!
– দুলাভাই আফনে আমারে চিনবেন না, ফোনটা আফার কাছে দেন হে চিনবো!
আমি লাউডস্পিকারে ফোনটা রিহানের মায়ের কাছে দিলাম!
– এই শুনছো ফোন ধরো, তোমার বাপের দ্বিতীয় সংসার থেকে তোমার সৎ ভাই আকবর আলী ফোন দিছে!
– অনি বিরক্ত করো না প্লীজ, ঘুমাতে দাও!
– তোমাদের বংশের না হলে এতো রাতে ফোন দিতো না! ফোন ধরে দেখো কী বলে!
অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিরক্ত মুখে রিহানের আম্মু ফোন ধরলো!
ফোন লাউডস্পিকারে, দেখি আকবর শালায় কী চায়?
– আফা আমি আকবর, আকবর আলী ; চিনছেন ?
– নাতো কোন আকবর আলী ?
– ঐযে আফনাদের মালিবাগের বাসায় চুরি করতে গিয়া ধরা পড়ছিলাম! আফনে আমারে বাটা সেন্ডেল দিয়া মারছিলেন পরে আফনার জুতা ছিঁড়া গেছিল। নতুন জুতার দুঃখে কতো কান্নাকাটি করলেন। মনে পরছে আফা ?
– ও মাই গড! তুই !
– জ্বে আপা আমি।
– তুই না হাজতে ছিলি !
– হ আফা, হাজতেই ছিলাম। কয়দিন আগে জামিনে বাইর হইছি।
– তো এখন কী চাস ? এতো রাতে ফোন দিলি ক্যান ?
– আফা গো আমি তো আবার ধরা খাইছি!
– আবার ধরা খাইছিস মানে ?
– হ আফা, আপনার বাসায় আটকা পরছি !
– আমার বাসায়! মানে কী! কী বলিস ?
– আফা গো, পেশাগত কারণে আপনার বাসায় ঢুকছিলাম! কিন্তু আমি ঢুকতেই আফনেরা বাসায় তালা দিয়া বাইর হয়া গেলেন!
আকবর শালার কথা শুনে আমি থ হয়ে গেলাম। হারামজাদা বলে কী! রিহানের আম্মুর কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে বললাম,
– ঐ শালা কী বলছিস এসব?
– হ দুলাভাই আমি আপনাদের বাসার ভিত্রে আটকা পরছি। আমারে উদ্ধার করেন গো দুলাভাই, আল্লার দোহাই লাগে।
– তুই বাসায় ঢুকলি কখন?
– সকালে, আফনেরা বাইর হওনের একটু আগে। আমি ঢুকতেই আফনারা গাট্টি বোচকা নিয়া বাইর হয়া গেলেন। আগে জানলে জীবনেও ঢুকতাম না!
– আমার বাসায় ঢুকলি কোন দুঃখে ? ঢাকা শহরে কী বাসার অভাব ছিলো?
– ভুল অয়া গেছে দুলাভাই। ভাবছিলাম কিছু নিয়া চম্পট দিমু। দুর্ভাগ্য দামী কিছুই পাইলাম না উল্টা কট খাইলাম!
– দামী কিছু পাইলাম না মানে! আমার টিভি, ওভেন, ব্লেন্ডার সবই তো দামী। সোফাসেটের দাম জানস হারামজাদা!
– দুলাভাই আমি এইসব মালে হাত দেই না। আমার কারবার নগদ টাকা,মোবাইল আর অলংকারপাতি নিয়া ! আপনার ঘরে এসবের কিছুই নাই!
– তুই তো অনেক স্মার্ট চোর দেখা যায়!
– থ্যাঙ্কয়্যূ দুলাভাই, সবই আপনাদের দোয়া !
– আচ্ছা, আমারে যে ফোন দিলি, নাম্বার পাইলি কই ?
– আফনের ভিজিটিং কার্ড পাইছি একটা !
– রিহানের আম্মুকে চিনিস কেমনে?
– মালিবাগে আফনের শ্বশুরের বাসায় ধরা খাইয়া পরিচয়। এখন বাসায় আফনের লগে ছবি দেইখা চিনছি।
– শালা তোর বুদ্ধি তো মন্দ না এরপরও ধরা খাস কেমনে?
– কপালের ফেরে ধরা খাইছি দুলাভাই। এখন আমারে উদ্ধার করেন সকাল থাইকা না খাওয়া।
রিহানের আম্মু ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। তাঁর বাসায় একজন জলজ্যান্ত চোর বসে আছে। যে কিনা আবার ফোনে কথাও বলছে। আমি রিহানের আম্মুকে আশ্বাস দিয়ে বললাম, চিন্তা করো না, বোকা চোর ঘরে তালা দেয়া আছে পালাতে পারবেনা!
ঈদের ছুটিতে বউ-বাচ্চা নিয়ে আজ রাতেই কক্সবাজার আসছি। কিন্তু হায় বাসার ভিতরে চোর রেখে চলে এসেছি। ছুটি কাটাতে এসে এমন ফান্দে পড়বো কে জানতো। এতো টাকা খরচ করে এলাম হোটেল বুক করলাম এখন ফেরতই বা যাই কী করে। মহা চিন্তায় পড়ে গেলাম। বাসার চাবিটা মালিকের কাছে না দিয়ে এখন পস্তাতে হচ্ছে।
কী করা যায়?
রিহানের আম্মু বললো,
– ট্রিপল নাইনে কল দিয়ে পুলিশকে জানালে কেমন হয়?
– মোটেও না! পুলিশ এসে দরজা ভাঙবে, বাসার জিনিস পত্র আউলাঝাউলা করবে। মামলার বাদী হতে থানায় ডাকবে। তার চেয়ে বরং ওকে কাজে লাগানো যায় কিনা দেখি।
– কাজে লাগাবা মানে! কী বলো হাবিজাবি!
– আগামী সাতদিন আকবর আলী আমাদের বাসাতেই থাকবে, আর বাসা পাহারা দিবে!
– চোর দিবে বাসা পাহারা ?
– হুম, যাতে ডাকাতি না হয়!
আমি আকবর আলীকে ফোন ব্যাক করলাম। ফোন ধরতে আকবর আলীর বিলম্ব হলো না।
– হ্যালো, আকবর।
– জ্বে দুলাভাই।
– কিছু কী খাইছিস ?
– জেলি দিয়া পাউরুটি খাইছি দুলাভাই। পেট ভরে নাই, ভাতের ক্ষিদা লাগছে।
– ভাত রাধতে জানিস ?
– ভাত তরকারি সবই রানতে পারি দুলাভাই!
– ভেরি গুড, ভাত চড়িয়ে দে। ফ্রিজে ডিম আছে ভেজে খেয়ে ফেল। আর শোন আমরা কক্সবাজার বেড়াতে চলে আসছি সাত দিন থাকবো। এই ক’দিন তোকে আমাদের বাসাতেই থাকতে হবে।
– কন কী দুলাভাই! বিরাট লসে পরে যাবো, ঈদ পারপাসে দু’চারটা কাজ না করলে সারাবছর চলবো কেমনে ?
– তাহলে পুলিশকে বলি তোকে উদ্ধার করে নিয়ে যাক!
– না না দুলাভাই মাফ চাই। কয়দিন হইলো বাইর কয়দিন হইলো বাইর হইছি এখন ধরলে জেলে পার্মানেন্ট কইরে দিবো!
– তাহলে খেয়ে ধেয়ে ঘুমিয়ে যা সকালে কথা হবে!
রিহানের আম্মু আমার দিকে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। এ যেন কিছুতেই হবার নয়! আমার কাছ থেকে ছোঁ মেরে ফোন নিয়ে আকবরকে বলে,
– খবরদার আকবর তুই কিন্তু আমার বেডে শুইবি না!
– তাহলে আফা কই শুইমু?
– ফ্লোরে শুইবি!
– আফা ফ্লোরে ঘুমাইলে আমার শইল বেদনা করে!
– তাহলে সোফায় ঘুমাবি, খবরদার আমার বেডে যাবি না! আর আমার বাথরুমেও যাবি না!
– আফা বাথরুম না করে সাতদিন থাকবো কেমনে?
– ড্রইং রুমের সাথের বাথরুমটাতে যাবি! ভালো করে ফ্লাশ করবি। ঘর যদি নোংরা হয় তাইলে কিন্তু খবর আছে বলে দিলাম।
– ওকে আফা, চিন্তা নিবেন না। এই সাতদিন আফনের ঘরের দায় দায়িত্ব আমার।
চোরের কাছে ঘরের দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না রিহানের আম্মু। তাকে চিন্তিত মনে হচ্ছে।
to be continued

135 total views, 3 views today

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here