আমার নীড়ে ফিরে আসার গল্প

0
18

একটা সময় আমার জীবনের বড় একটা অংশ ছিলো বয়ফ্রেন্ড আর গানবাজনা। এই ২টা জিনিসকে নিজের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছিলাম (আল্লাহ মাফ করুক)। কিচ্ছু বুঝতাম না এগুলো ছাড়া।
সে আমাকে প্রতি ওয়াক্তে নামাজের কথা স্বরণ করিয়ে দিত,আমাকে তাহাজ্জুদ পড়তে বলত,আমাকে অন্য ছেলে বন্ধুদের সাথে মিশতে নিষেধ করত,আমাকে বাহিরে একা যেতে নিষেধ করত,আমাকে ফুল হিজাব করতে বলত। সেইসাথে আমার নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করত।
আমরা ২৪ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘন্টাই কথা বলতাম (আস্তাগফিরুল্লাহ) ।
অথচ আমরা কখনওই সুখি ছিলাম না।সপ্তাহে ৭ দিনের মধ্যে ৫ দিন ঝগড়া হতো। অশান্তি লেগেই থাকত। তখন আমি গান শুনে কষ্ট কমানোর চেষ্টা করতাম (হারাম রিলেশনশিপ গুলো এমনি হয়,এটা আল্লাহর গজব হয়তো)।

আমি যখন নামাজ পড়তাম তখনও তাকে আর গানের লাইনগুলো মনে নাড়া দিতো (আস্তাগফিরুল্লাহ )।
কোরআন পড়ার সময়টাও যেন মনোযোগী হতেই পারতাম না।
আমি অন্য ছেলে বন্ধুদের সাথে মিশতাম না। ভাবতাম খুব পর্দা করছি। এদিকে তাঁর সাথে ঠিক যোগাযোগ রাখতাম। বোরখা পরতাম,মুখ ঢাকতাম কিন্তু তার কথা মতো ফুল হিজাব করতাম না।
কারণ আমার মনে হতো আমি তার সাথে যেখানে সেখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করব আর হাতে পায়ে মোজা পারবো,আমি তো মুখোশধারী শয়তানদের দলে পরে গেলাম।

আমি সব সময় মানসিক ভাবে অসুস্থতা অনুভব করতাম। অপরাধবোধে ভুগতাম । তার সাথে যখন ঝগড়া হতো তখন আমি আল্লাহর কাছে (বিশেষ করে ফরজ নামাজের পর) চাইতাম
“আল্লাহ তুমি যদি মঙ্গল মনে কর তাহলে তার সাথে আমার হালাল সম্পর্ক তৈরি করে দাও আর যদি না চাও আমাদেরকে শয়তানের ধোকা থেকে মুক্ত কর”।
সে আমাকে বার বার জিজ্ঞেস করত আমি নামাজে কি চাই?? আমি মিথ্যা বলতাম (আমি চাইছি তাড়াতাড়ি ঝগড়া মিটে যাক)। এভাবে চলল কয়েকটা বছর।
একটা সময় আমার (মানসিক জটিল সমস্যার) কারণে সে আমার প্রতি বিরক্ত হয়ে গেল । আমার থেকে দূরে যেতে চাইল,আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। আবার সব ঠিক হয়ে গেল।
২ জনেই পড়ালেখায় পিছিয়ে পারলাম #সে সর্বদা আমাকে দায়ী করতে থাকল ।
তারপর আবারো তার পরিবর্তন!! আমার প্রতি সেই বিরক্তি….. মেনে নিতে পারছিলাম না।

এদিকে আম্মু আমার মাথায় হাত দিয়ে মনেপ্রাণে দোয়া করত “আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত করুক,সঠিক জ্ঞান দেক,তোমাকে রক্ষা করুক”।

অল্প কিছু দিন পর সে প্রায় বিকৃত অবস্থায় ফিরে আসলো,আমার কাছে ক্ষমা চাইল। প্রতিশ্রুতি দিলো ফ্যামিলিকে বলে খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবে। আমি সব মেনে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই আবার সে নিজের মিথ্যা গুলো আমার উপর চাপিয়ে দিতে থাকল । আমি বুঝতে পারলাম দিনে দিনে আমি আমার সহ্য সীমানার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি।
ভেঙে দিলাম সব। যদিও খুব কষ্ট হচ্ছিল। বার বার মন চাইছিল ক্ষমা চাই তার কাছে, ঠিক করে নিই সব। কিন্তু আল্লাহ হয়ত অন্য কিছু চেয়েছেন ।

সম্পর্ক ছেড়ে এবার আমি বন্ধু,বান্ধবী আর ফেসবুক আড্ডায় মেতে উঠলাম।ইবাদতে একদম অমনোযোগী হয়ে গেলাম। মনের মধ্যে অশান্তি কমাতে ফেসবুকই হয়ে উঠল ধ্যান জ্ঞান।

আমার অবস্থাটা আমার বড় আপু বুঝতে পেরেছিল, সে আমাকে কিছু ইসলামী গ্রুপে এড করে দিলো, সাথে কিছু বই পড়তে দিলো। আমিও নিজের মাঝে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। ধীরে ধীরে অন্যান্য ইসলামিক গ্রুপে যুক্ত হলাম।
আমি অনুভব করলাম প্রশান্তি এভাবেই আসে। ওই ভাবে কোনদিন প্রশান্তি পেতাম না। আমি ভ্রষ্টতার মধ্যে আছি।

এরপর একে একে সব বাজে গ্রুপ থেকে লিভ নেয়া শুরু করলাম । তারপর বাদ দিলাম গান, সিনেমা ।তারপর অন্য সব বন্ধু আর ভাইয়াদের বিদায় দিলাম। শুরু করলাম ফুল হিজাব(আলহামদুলিল্লাহ )। এবার সব ত্যাগ আর পরিবর্তন শুধু আল্লাহর জন্য। সত্যিকারের প্রেমের জন্য৷ সত্যিকারের প্রেমের সন্ধানে৷

আমি শুধু শুরু করেছিলাম,আর আল্লাহ আজ আমাকে এই পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন । আল্লাহর কসম আমার গান আর হারাম রিলেশেন জন্য একদম অস্থির লাগেনা। বরং দারুণ প্রশান্তি নিয়ে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম অভিভাবকের জন্য অপেক্ষা করছি। অতীতের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি আমার অন্তর্যামীর কাছে। ঈনানের সাথে মৃত্যু কামনা করছি।
আল্লাহ আমাকে,আমার পরিবারকে ঈমানের উপর টিকিয়ে রাখুক।

আমার এই পরিবর্তন অবশ্যই প্রথমত ছিল আল্লাহর অনুগ্রহ, সেই সাথে আম্মু আর আমার আপুর ধৈর্য আর সহযোগিতা ছিল অনবদ্য। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন

82 total views, 12 views today

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here